বিধিমালার গেজেট প্রকাশ আইপিও ছাড়াই পুঁজিবাজারে আসার সুযোগ
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ এএম
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। খবরের কাগজ গাফিক্স
-->প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে নতুন শেয়ার ইস্যু না করেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে বড় কোম্পানি। এ জন্য বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানির অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে। পাশাপাশি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে রেফারেন্স মূল্যের চেয়ে অন্তত ২৫ শতাংশ কমে ন্যূনতম বিক্রয় মূল্য নির্ধারণের শর্ত রাখা হয়েছে।
এ সুযোগ তৈরি করে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক এক্সচেঞ্জে সিকিউরিটিজের ডাইরেক্ট লিস্টিং) বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত ১৩ অক্টোবর বিধিমালাটি জারি করা হয়। গত ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়েছে। গেজেট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিধিমালাটি কার্যকর হয়েছে। গতকাল সোমবার বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নতুন বিধিমালায় সরকারি ও বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, বড় শিল্পগোষ্ঠী, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এ জন্য কোম্পানিকে অন্তত পাঁচ বছর ব্যবসা পরিচালনা, আগের দুই অর্থবছরে মূল ব্যবসা থেকে মুনাফা অর্জন এবং সর্বশেষ অর্থবছরে পরিচালন কার্যক্রম থেকে ইতিবাচক নগদ প্রবাহসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হবে।
আরও পড়ুন
এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর বিএসইসির ১০২৭তম কমিশন সভায় চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে বিধিমালার খসড়া অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে খসড়াটির ওপর সাধারণ বিনিয়োগকারী, বাজার মধ্যস্থতাকারী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের কাছ থেকে লিখিত মতামত নেয় কমিশন। মতামত প্রদানের সর্বশেষ সময় ছিল ১৫ নভেম্বর। সবার মতামতের ভিত্তিতে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
বিধিমালা অনুযায়ী, সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনকারী কোম্পানিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হতে হবে। কোম্পানিটির বার্ষিক টার্নওভার বা বিক্রয় আয় অন্তত ১ হাজার কোটি টাকা হতে হবে। এ ছাড়া সম্পূর্ণ বা অন্তত ৫১ শতাংশ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানি এবং সম্পূর্ণ বা অন্তত ৫১ শতাংশ সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিও এ সুযোগ পাবে। সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মালিকানা অন্তত ১০ শতাংশ রয়েছে, এমন কোম্পানিও যোগ্যতার আওতায় আসবে।
ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী নিট সম্পদ অন্তত ৫০০ কোটি টাকা হতে হবে। এ ছাড়া বিএসইসি নির্ধারিত অন্য কোম্পানিকেও সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ দেওয়া যাবে।
নতুন বিধিমালায় শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিকে মার্চেন্ট ব্যাংকারের সঙ্গে পরামর্শ করে শেয়ারের একটি রেফারেন্স মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। এ মূল্যায়নে অন্তত দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। এর মধ্যে একটি পরম মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং অন্যটি আপেক্ষিক মূল্যায়ন পদ্ধতি হতে হবে। কোম্পানির ব্যবসার ধরন ও খাত বিবেচনায় মূল্যায়ন পদ্ধতি নির্বাচন করতে হবে এবং তা নির্বাচনের যৌক্তিকতা প্রকাশ করতে হবে।
রেফারেন্স মূল্য নির্ধারণের পর শেয়ার বিক্রির ন্যূনতম প্রস্তাব মূল্য বা ‘মিনিমাম আস্কিং প্রাইজ’ ওই মূল্যের অন্তত ২৫ শতাংশ কম রাখতে হবে। অর্থাৎ কোনো কোম্পানির রেফারেন্স মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারিত হলে ন্যূনতম প্রস্তাব মূল্য ৭৫ টাকা বা তার কম হতে হবে। তবে এটি শেয়ারের চূড়ান্ত বাজারদর নয়। প্রথম দিনের মূল্য আবিষ্কার পর্বে বিনিয়োগকারীদের দর প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাজারদর নির্ধারিত হবে।
বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, তালিকাভুক্তির পর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ৩০ শতাংশ শেয়ার ধরে রাখতে হবে। এ মালিকানা পরবর্তী সময়েও বজায় রাখতে হবে। অন্যদিকে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বিক্রির জন্য নির্ধারিত মোট শেয়ারের সর্বোচ্চ ১ শতাংশ কোনো একক ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী কিনতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বিক্রির জন্য নির্ধারিত শেয়ারের অন্তত ১০ শতাংশ প্রথম লেনদেন দিবস থেকে ৩০ লেনদেন দিবসের মধ্যে বিক্রি করতে হবে।
প্রথম দিন শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে দুই ঘণ্টার মূল্য আবিষ্কার পর্ব থাকবে। এ সময়ে বিনিয়োগকারীরা ক্রয়াদেশ দিতে পারবেন, তবে বিক্রেতারা কোনো বিক্রয়াদেশ দিতে পারবেন না। ন্যূনতম প্রস্তাব মূল্যের নিচে কোনো ক্রয়াদেশ গ্রহণ করা হবে না। মূল্য আবিষ্কার পর্ব শেষে বিক্রেতারা বাজারে পাওয়া সর্বোত্তম দরে শেয়ার বিক্রির আদেশ দিতে পারবেন। প্রথম দিন শেয়ারের ওপর কোনো সার্কিট ব্রেকার কার্যকর হবে না।
এ ছাড়া প্রথম দুই লেনদেন দিবসে একক আদেশে ১০০টির কম বা ১ হাজারের বেশি শেয়ার কেনার আদেশ গ্রহণ করা হবে না। সরাসরি তালিকাভুক্তির প্রথম দিন থেকে ১ বছর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিক্রেতারা ওই কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারবেন না। আর তালিকাভুক্তির সময় হাতে থাকা শেয়ারের ৫০ শতাংশের বেশি বিক্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিধিনিষেধ থাকবে।
বিধিমালা অনুযায়ী তালিকাভুক্তির আবেদন করতে ১ লাখ টাকা ফি দিতে হবে। আবেদন পাওয়ার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জকে কোনো ঘাটতি থাকলে তা জানাতে হবে। সব শর্ত পূরণের পর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিতে হবে। অনুমোদিত তথ্য বিবরণী প্রথম লেনদেন শুরুর অন্তত ১০ দিন আগে প্রকাশ করতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির আর্থিক ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
নতুন বিধিমালার মাধ্যমে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ২০১৫ সালের তালিকাভুক্তি প্রবিধানমালায় থাকা ডিরেক্ট লিস্টিংসংক্রান্ত ৮ থেকে ১৩ নম্বর প্রবিধান বাতিল করা হয়েছে। ফলে সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে এখন থেকে নতুন বিধিমালার শর্ত অনুসরণ করতে হবে।
আরও পড়ুন
জয়পুরহাটে চিনি চাম্পা কলার দামে ধস, বিপাকে কৃষকরা
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২০ এএম
জয়পুরহাটের দুর্গাদহ কলার হাটে প্রচুর চিনি চাম্পা কলার আমদানি হয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ
-->লাভের আশায় জয়পুরহাটে এবার ব্যাপক জমিতে কলার চাষ করেছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে ভালো। কিন্তু হঠাৎ করে হাটে চিনি চাম্পা কলার দাম অর্ধেকে নেমে গেছে। এতে ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা। কলা বিক্রি করে উৎপাদন খরচও না ওঠায় চোখে-মুখে চিন্তার ভাঁজ তাদের মুখে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় চিনি চাম্পা কলার দাম কমেছে। আর চাষিদের বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।
জানা গেছে, ধান ও আলুর চেয়ে কলা চাষ বেশি লাভজনক হওয়ায় জয়পুরহাটে দিন দিন বাড়ছে এই চাষ। এই কলা বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার দুর্গাদহ বাজারে গড়ে উঠেছে বিশাল কলার হাট। এ হাটে শুক্রবার বাদে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে প্রায় কোটি টাকার কলা কেনাবেচা। এ হাটে বিক্রি হয় অনুপাম, সাগর ও চিনি চাম্পা। জয়পুরহাট ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকেও এখানে কলা বিক্রি করতে আসেন কৃষকরা। বর্তমান এখানে প্রচুর পরিমাণ চিনি চাম্পা কলার আমদানি হয়েছে।
এখানকার কলার গুণগত মান ভালো হওয়ায় রাজধানী ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ ট্রাক কলা সরবরাহ হচ্ছে। তবে এই কলার হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় থাকলেও হাসি নেই চিনি চাম্পা কলাচাষিদের। অন্যান্য কলার দাম ভালো থাকলেও হঠাৎ করে চিনি চাম্পা কলার দাম কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। এই কলা প্রতি কাইন (ঘাউর) বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৩০০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায়। আর অনুপম কলার দাম স্বাভাবিক রয়েছে, তা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।
আরও পড়ুন
হঠাৎ করে চিনি চাম্পা কলার দাম এমন কমে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠছে না তাদের। এদিকে এই হাটে জায়গাসংকটের কারণে কলা বেচাকেনায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের। এ ছাড়া হাটটি সড়কসংলগ্ন হওয়ায় সড়কে দাঁড়িয়ে কলা তোলা হয় ট্রাকে। এতে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। কলার ন্যায্যমূল্যসহ হাটের জায়গা বড় করার দাবি কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।
সদরের মাঝিপাড়া গ্রামের কৃষক সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘চিনি চাম্পা কলার দাম কয়েক দিন আগেও ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা ঘাউর (কাইন) বিক্রি হয়েছে। এখন সেই কলার দাম অর্ধেক কমে গেছে। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ঘাউর বিক্রি হচ্ছে। এতে আমাদের উৎপাদন খরচই উঠবে না।’
চকমোহন গ্রামের কৃষক মনজুরুল হোসেন বলেন, ‘চিনি চাম্পা কলা বিক্রি করে কোনো লাভ হচ্ছে না। সার-কীটনাশকের দাম বেশি। এক বিঘা জমিতে ৪০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। আর বর্তমানে কলা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। অন্য বছর এক বিঘা জমিতে ১ লাখ টাকার কলা বিক্রি হয়েছে। এবার কলার আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কম। সরকারের কাছে অনুরোধ–এই কলার দাম যেন বাড়ানো হয়।’
ঝিনাইদহের কলা ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেন, ‘সারা দেশে চিনি চাম্পা কলার প্রচুর আমদানি হয়েছে। এ জন্য দাম কম। আমরা এ হাট থেকে কলা কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করি। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হাটের জায়গা ছোট। হাটের এক পাশে সড়ক, আরেক পাশে ইউনিয়ন পরিষদ। এ কারণে কলা কিনে রাখার জায়গা পাওয়া যায় না। হাটটি বড় করা হলে সবার জন্য ভালো হবে।’
কুমিল্লার ব্যবসায়ী সামাদ গাজী বলেন, ‘কলার দাম কমে যাওয়ার কারণ দেশের বিভিন্ন জেলায় চিনি চাম্পা কলা উঠতে শুরু করেছে। আমদানি বেশি হলে দাম তো কম হবেই। প্রতিদিন এ হাট থেকে ২০ থেকে ৩০ ট্রাক কলা সারা দেশে সরবরাহ হয়। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ হাটের জায়গা অনেক ছোট।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজু আলম সরকার বলেন, জয়পুরহাট জেলায় এবার ৭১৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হেক্টর কলা নষ্ট হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ হেক্টর জমির কলা উত্তোলন হয়েছে। কলা চাষে কৃষকদের বিভিন্ন সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গাদহ কলার হাটটি সম্প্রসারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে কলা বিপণন সহজ হবে।
আরও পড়ুন
আট মাসে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১২ শতাংশ কমেছে
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ। এর বিপরীতে চীনের রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ, আর ভিয়েতনামের বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। যদিও এই সময়ে বাংলাদেশের মতো তুরস্ক ও ভারতের পোশাক রপ্তানিও কমেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউরোপিয়ান পরিসংখ্যান সংস্থা ‘ইউরোস্ট্যাট’-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে জানা যায়, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইইউর ক্রেতা প্রতিষ্ঠান সামগ্রিকভাবে তৈরি পোশাক আমদানি যতটুকু কমিয়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে প্রায় তিন গুণ। গত জানুয়ারি থেকে আগস্টে ইইউতে বাংলাদেশ ১ হাজার ১৯৩ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে।
আরও পড়ুন
এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫৮ কোটি ইউরো অথবা ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ কম। অন্যদিকে চীন চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইইউর বাজারে ১ হাজার ৯৭১ কোটি ইউরোর পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটির রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ অথবা ৪৫ কোটি ইউরো। একই সময়ে ভিয়েতনাম ৩০০ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ কোটি ইউরো অথবা ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি।
ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নে মোট ৬০ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক আমদানি করা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ৬২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ইউরোর তুলনায় ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ কম। এ সময়ে আমদানি করা পোশাকের ওজন কমেছে ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। পাশাপাশি প্রতি কেজি পোশাকের গড় আমদানি মূল্য ১ দশমিক ২৯ শতাংশ কমে ১৯ দশমিক ৯১ ইউরো থেকে ১৯ দশমিক ৬৫ ইউরো হয়েছে।
ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি কেজি পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্য ১৪ দশমিক ৮৭ ইউরো থেকে ১৩ দশমিক ৭৬ ইউরোতে নেমেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে শুধু পরিমাণগত হ্রাস নয়, বরং প্রতি কেজি পোশাকের কম মূল্যও রপ্তানি আয় কমার অন্যতম প্রধান কারণ। রপ্তানির পরিমাণ তুলনামূলক কম হারে কমলেও একক মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে আগস্ট মাসের চিত্র কিছুটা ভিন্ন।
ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় ২০২৬ সালের আগস্টে ইইউতে পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ। এ সময়ে ইইউতে আমদানির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ কমলেও প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য বেড়েছে ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। ফলে মাসটিতে মোট আমদানি মূল্যে সামান্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইইউর বড় পোশাক সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে চীনই একমাত্র দেশ, যার রপ্তানির মূল্য ও পরিমাণ–দুটিই বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ইইউতে চীনের পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ১৯ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে। একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তবে প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য কমেছে ১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। অন্যদিকে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানির মূল্য ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ৩ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে। যদিও দেশটির রপ্তানির পরিমাণ ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ কমেছে, প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য ১০ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি মূল্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চীন ও ভিয়েতনামের বিপরীতে ইইউর অধিকাংশ প্রধান পোশাক সরবরাহকারী দেশের রপ্তানি মূল্য কমেছে। অন্যদিকে কম্বোডিয়ার রপ্তানির পরিমাণ ১১ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমেছে, তবে প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য বেড়েছে ৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম খবরের কাগজকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি ধরে রাখা এবং কম দামে পোশাক বিক্রির প্রবণতা বন্ধে একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। উদ্যোক্তারা যখন ইউডি গ্রহণের জন্য আবেদন করবেন, তখন কনজাম্পশনের পাশাপাশি পণ্যের উৎপাদনে কত খরচ হচ্ছে, তার বিবরণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। শিট পর্যালোচনা করে যদি দেখা যায় কোনো প্রতিষ্ঠান অস্বাভাবিক কম দামে অর্ডার গ্রহণ করেছে, তবে তাদের ইউডি অনুমোদন দেওয়া হবে না। এর ফলে দেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাকের সঠিক মূল্য আদায় করা সহজ হবে।
আরও পড়ুন
দিনাজপুরে ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩০ এএম
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় আগাম জাতের আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা ছবি: খবরের কাগজ
-->দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় আগাম জাতের আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে নতুন আলু বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়ার আশায় বীজ রোপণ ও খেত পরিচর্যায় নেমেছেন তারা। ইতোমধ্যে জেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলুর বীজ রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ জাতের আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার আশা করছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এই জেলায় ৪৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার ২৫০ হেক্টর। ইতোমধ্যে জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলুর বীজ রোপণ করেছেন কৃষকরা।
উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, ভালো দাম পাওয়ার আশায় কৃষকরা আশ্বিন মাসের শেষ দিকে স্বল্পমেয়াদি আগাম আমন ধান কেটে জমি প্রস্তুত করে আলু রোপণ শুরু করেছেন। এবার আগাম জাতের আলু চাষে কৃষকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। অনেক কৃষকের আলুর বীজ রোপণের ১০ থেকে ১২ দিন পার হয়েছে। এসব জমিতে আলুর গাছও উঠতে শুরু করেছে। গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দিয়ে পরিচর্যা করছেন চাষিরা। তাদের আশা, অগ্রহায়ণের শুরুতেই নতুন আলু ঘরে তুলে নবান্ন উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন।
আরও পড়ুন
তবে আগাম আলু চাষে খরচ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তায়ও রয়েছেন কৃষকরা। দিনাজপুর সদর উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, আলুর বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি–সবকিছুর দাম বেড়েছে। ফলে এবার চাষাবাদে আগের তুলনায় বেশি খরচ হচ্ছে। তার পরও আগাম আলু চাষ করে ভালো লাভের আশা করছেন তারা।
তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদি আগাম আমন ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে আলু চাষের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। জমি চাষ, সার প্রয়োগ, হিমাগার থেকে বীজ সংগ্রহ, রোপণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষকদের।
বীরগঞ্জ উপজেলার মাহানপুর গ্রামের কৃষক মো. আব্দুর রহিম বলেন, তিনি ও এলাকার অন্য কৃষকরা প্রস্তুত করা জমিতে আলুর বীজ রোপণ করছেন। এবার তারা অ্যাস্টেরিক ও কার্ডিনাল জাতের আলু চাষ করছেন।
ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষক মো. মাহামুদ আলীও আগাম আলু চাষে জমির পরিমাণ বাড়িয়েছেন। গত বছর সাড়ে আট বিঘা জমিতে আলু চাষ করলেও এবার করছেন ১২ বিঘা জমিতে। তিনি বলেন, এবার উৎপাদিত আলুর ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন। তবে বীজের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে।
জেলার একাধিক কৃষক জানান, প্রতিবছর বাড়তি মুনাফার আশায় অনেকেই আগাম জাতের আলু চাষ করেন। এবার বীজের দাম তুলনামূলক বেশি হলেও লাভের আশায় হিমাগার থেকে বীজ কিনে জমিতে রোপণ করছেন তারা।
সদর উপজেলার সদরপুর গ্রামের আলুচাষি মো. শহিদুর রহমানের ১০ বিঘা জমিতে অ্যাস্টেরিক জাতের আলু রোপণ করেছেন শ্রমিকরা। তাদের একজন জানান, এক বেলা খাবারসহ প্রতিদিন ৫০০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন তারা। এ আয় দিয়েই সংসার চালাতে হয়।
কৃষি বিভাগ জানায়, সদর, বীরগঞ্জ, খানসামা, বিরল, চিরিরবন্দরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আলুর চাষ ও উৎপাদন বেশি হয়। আগাম জাতের আলু তুলে একই জমিতে রবি মৌসুমের বিভিন্ন শাকসবজি চাষের সুযোগ থাকায় কৃষকরা জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারছেন। কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীদের পরামর্শে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে উঁচু জমিতে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদন করছেন অনেকে। এতে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি লাল পাকরি জাতের আলুর বীজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং কার্ডিনাল জাতের বীজ ২৮ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিরল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার উঁচু জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ শুরু হয়েছে। অ্যাস্টেরিক, কার্ডিনাল, লাল পাকরি, রোমানা ও ডায়মন্ড জাতের আলু রোপণের ৫৫ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়। সঠিক নিয়মে জমির পরিচর্যা করতে পারলে এসব জাতের আলু থেকে ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তুলনামূলক কম সময়ে ফসল ঘরে তোলা যায় বলে আগাম আলু চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে।
দিনাজপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বৃহত্তর দিনাজপুর অঞ্চলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ আলু উৎপাদিত হয়। এ অঞ্চলের উৎপাদিত আলুর অর্ধেকেরও বেশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা পূরণে সরবরাহ করা হয়। চলতি বছরও এ উৎপাদনধারা অব্যাহত রাখতে কৃষকদের আলু চাষে উৎসাহিত করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
আরও পড়ুন
রূপালী-জনতা-সোনালী ব্যাংকের এমডির চুক্তি বাতিল
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
রূপালী, জনতা ও সোনালী ব্যাংকের এমডি। ছবি: সংগৃহীত
-->রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী, জনতা ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বাকি মেয়াদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
২০২৪ সালের শেষ দিকে দায়িত্ব পাওয়া এ তিনজনের চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করে আলাদা চিঠি জারি করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন- রূপালী ব্যাংকের কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম, জনতা ব্যাংকের মজিবুর রহমান ও সোনালী ব্যাংকের শওকত আলী খান।
আরও পড়ুন
এর আগে, বেসিক ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অবশিষ্ট মেয়াদের নিয়োগ বাতিল করে সরকার। তখন থেকে ব্যাংক দুটি ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিয়ে চলছে। এ নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ শূন্য হলো।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অনুযায়ী মো. মজিবর রহমানের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সুপারিশ ও সম্মতি দেয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বর জনতা ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে থাকা মজিবর রহমানকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
আরেক প্রজ্ঞাপন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বলেছে, রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের জন্য সরকারের সুপারিশ বা সম্মতি জ্ঞাপন করা হলো।
এ-সংক্রান্ত চিঠি রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল হুদার কাছে পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়। ওয়াহিদুল ইসলামকে সোনালী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে।
আরেক আদেশে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খানের চুক্তিভিত্তিক অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর তাকে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় তিন বছরের জন্য। সোনালী ব্যাংকে নিয়ে আসার আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।
রিফাত/
