কিছু কিছু বই রয়েছে, যেগুলোর পাতা উল্টাতে উল্টাতে কখন যে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়, টেরই পাওয়া যায় না। মনে হয়, এগুলো তো আমাদেরই আশেপাশের চেনা মানুষের জীবনের গল্প। কেউ চাকরি হারিয়ে নতুন করে বাঁচার লড়াই করছে, কেউ পাহাড়ের কোলে অচেনা পথে নিজের মনকে খুঁজে ফিরছে, আবার কেউ রূপকথার মতো অদ্ভুত সব ঘ্রাণে বুঁদ হয়ে আছে। জীবনের ঠিক এইরকম নানা ছোট-বড় অনুভূত, রোমাঞ্চ আর ভালোবাসার আমেজে ভরা ৬ বই নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের বইপাড়া। চলুন একে একে গল্পগুলোর অন্দরে একটু ঢুঁ মেরে আসা যাক।
বাবলগাম — স্মরণজিৎ চক্রবর্তীছবি: সংগৃহীত।
সফল, ঋতজ্ঞ, বিকাশ বা পিউয়ের মতো চেনা মানুষগুলো হঠাৎ একদিন চাকরি হারিয়ে বসল। চোখের পলকে বদলে গেল তাঁদের গোছানো জীবনটা। কেউ ডব্লুবিসিএস পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় দিন গুনছে, কেউ সেলসম্যানের চাকরি নিয়ে চরম বিপদে, আবার কাউকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় চলছে। স্থানীয় গুন্ডা-নেতার উৎপাত আর পোষার মুদির বড় দোকান — সব মিলিয়ে এ যেন এক অদ্ভুত ঘূর্ণি! শত অভাব আর বিপদের মধ্যেও মানুষ কী ভাবে আবার বুক ফুলিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, ভালোবাসার কথা বলতে পারে, তারই নকশিকাঁথার বুনন হলো এই ‘বাবলগাম’।
পথ হারাবো বলেই — অভীক দত্তছবি: সংগৃহীত।
একসঙ্গে দুটো দারুণ রোম্যান্টিক গল্প। প্রথমটায় — কয়েক জোড়া দম্পতি আর কিছু কলেজপড়ুয়া বন্ধু মিলে পাহাড়ে ঘুরতে যায়। আর সেখানেই একে একে বেরিয়ে আসে এতদিন বুকে চেপে রাখা সম্পর্কের টানাপড়েন আর না বলা কথাগুলো। আর দ্বিতীয় গল্পটি, যা বইয়ের নামও বটে —‘পথ হারাবো বলেই’। চান্দ্রেয়ী বাবা-মায়ের সঙ্গে বেড়াতে বেরিয়েছে, কিন্তু তাঁর প্রেমিক তো চোখের আড়াল সইতেই পারে না! সেও বন্ধুদের নিয়ে ছুটল প্রেমিকার পিছু পিছু। মেয়ের কাণ্ড টের পেয়ে বাবাও দারুণ বুদ্ধিতে ভ্রমণের পথটাই বদলে দিলেন! রোমাঞ্চ আর ভালোবাসার মিষ্টি ছোঁয়ায় মোড়া এই বই।
আপনাকে আমার ভালো লাগে — সম্রাট সর্দারছবি: সংগৃহীত।
‘আমাদের ভালোলাগাগুলো, সাধারণত পরিবর্তনশীল, কখন যে কী ভালো লাগে, আমাদের চোখে তা বোঝা বড় মুশকিল।’ বর্ষার ভরা নদীর ঘোলা জল, মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরি, কিংবা শীতে প্রিয়জনের উষ্ণ স্পর্শ — ঋতু বদলায়, আর সঙ্গে বদলে যায় আমাদের মনও। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, আমাদের ভালোলাগার সব কিছুই কেমন যেন ক্ষণস্থায়ী! আর যা কিছু চিরস্থায়ী, তা রয়ে যায় হৃদয়ের গোপন কোণে দুঃখ কিংবা শোক হয়ে। কোনও কিছু সহজেই পেয়ে গেলে কি তার কদর কমে যায়? নাকি পাওয়ার আগেই তার আসল আকর্ষণ থাকে? ঋতু পরিবর্তনের মতো মানুষের আকাঙ্ক্ষাও যেন তাকে এক গন্তব্য থেকে অন্য গন্তব্যে টেনে নিয়ে চলে। জীবনের এই চিরন্তন ভাবনাই ফুটে উঠেছে এই বইটিতে।
জলমিছরি — রবিউল করিম মৃদুলছবি: সংগৃহীত।
ঘর থেকে উঠোনে নামতে গিয়ে হঠাৎ রান্নাঘরের পৈঠার পাশে চোখ আটকে গেল ফিরোজার। যার কোলঘেঁষে রাখা জলের কলস, যেখানে পড়ে আছে রাতের মাজার কালিমাখা ন্যাতা আর একটা ভাঙা ডিমের খোসা — ঠিক সেই জায়গাতেই মাটি ফুঁড়ে উঁকি দিচ্ছে একটা অদ্ভুত ফুল। কোনও গাছ নেই, ঝোপঝাড় নেই, শুধু স্যাঁতস্যাতে মাটি ফেটে বেরিয়ে এসেছে একটা ডাঁটির মাথা। আর তার মাথায় পিতল রঙের এক ফুল। তার তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ যেন মন্ত্রমুগ্ধের মতো টেনে আনল ফিরোজাকে। একটা ফুল দেখতে দেখতে চারপাশ ভরে উঠল অজস্র পিতলবর্ণের ফুলে। ফুলগুলো যেন ফিসফিস করে তাকে এক অজানা ডাক দিল...
রাকা — শর্মিষ্ঠা দেছবি: সংগৃহীত।
কিশোরী রাকার মন জুড়ে কেবল একটাই খোঁজ — ভালোবাসার খোঁজ। সে সবেমাত্র নতুন একটা স্কুলে ভর্তি হয়েছে, তৈরি হয়েছে নতুন কিছু বন্ধু। এই অচেনা ভুবনে কি সে খুঁজে পাবে তার কাঙ্ক্ষিত সেই ভালোবাসার মানুষকে? রাকা আর স্বপ্নর মিষ্টি সম্পর্কের হাত ধরে এক কিশোর মনের নরম রোমাঞ্চের গল্প বলে এই বই।
সবুজ চাঁদে নীল জোছনা — আবদুল্লাহ মাহমুদ নজীবছবি: সংগৃহীত।
তরুণ প্রজন্মের অত্যন্ত প্রতিভাবান ও বিশ্বাসী কবি আবদুল্লাহ মাহমুদ নজীব। ফররুখ ও আল মাহমুদের পরবর্তী সাহিত্যিক মশাল বয়ে নেওয়ার এক যোগ্য সিপাহসালার তিনি। তাঁর এই কাব্যগ্রন্থে যেন সত্যের চাষাবাদ হয় কাগজজমিনে। বইটির একটি কবিতায় কবি খুব সুন্দর করেই লিখেছেন — ‘সমুদ্রের তৃষ্ণা পেয়েছে, তাকে জলপান করানোর জন্য একজন কবি ছাড়া কেউ নেই এখানে।’কবিতা ভালোবেসে যাঁরা হৃদয়ে একটু প্রশান্তি খুঁজতে চান, তাঁদের জন্য এটি এক অপূর্ব সৃষ্টি।
একনজরে
বইয়ের সংখ্যা: ৬
বিষয়: বাংলা সাহিত্য, প্রেম, রোমাঞ্চ, জীবনসংগ্রাম ও কবিতা
আলোচিত বই: বাবলগাম, পথ হারাবো বলেই, আপনাকে আমার ভালো লাগে, জলমিছরি, রাকা এবং সবুজ চাঁদে নীল জোছনা
লেখক: স্মরণজিৎ চক্রবর্তী, অভীক দত্ত, সম্রাট সর্দার, রবিউল করিম মৃদুল, শর্মিষ্ঠা দে ও আবদুল্লাহ মাহমুদ নজীব
কাদের জন্য: বাংলা বইপ্রেমী, তরুণ পাঠক এবং নতুন বই খুঁজছেন এমন পাঠক
বিশেষ আকর্ষণ: সম্পর্কের টানাপোড়েন, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই, কল্পনার জগৎ ও কবিতার অনুভূতি
FAQ: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
১. এই প্রতিবেদনে কোন কোন বাংলা বইয়ের কথা বলা হয়েছে?
এই প্রতিবেদনে ছয়টি বইয়ের কথা বলা হয়েছে— বাবলগাম, পথ হারাবো বলেই, আপনাকে আমার ভালো লাগে, জলমিছরি, রাকা এবং সবুজ চাঁদে নীল জোছনা।
২. ‘বাবলগাম’ বইটির লেখক কে?
‘বাবলগাম’ লিখেছেন স্মরণজিৎ চক্রবর্তী। চাকরি হারানো, জীবনের অনিশ্চয়তা, সম্পর্ক ও প্রতিকূলতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর নানা গল্প উঠে এসেছে বইটিতে।
৩. ‘পথ হারাবো বলেই’ বইটি কী ধরনের?
অভীক দত্তের এই বইয়ে রয়েছে দুটি রোম্যান্টিক গল্প। পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়া, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ভালোবাসার নানা অনুভূতি গল্প দুটির গুরুত্বপূর্ণ দিক।
৪. ‘জলমিছরি’ বইটির বিশেষত্ব কী?
রবিউল করিম মৃদুলের এই বইয়ের বর্ণনায় একটি রহস্যময় পিতলবর্ণের ফুলকে ঘিরে অদ্ভুত অভিজ্ঞতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কল্পনা ও রহস্যের আবহ বইটির অন্যতম আকর্ষণ।
৫. ‘রাকা’ বইটির লেখক কে?
‘রাকা’ লিখেছেন শর্মিষ্ঠা দে। নতুন স্কুল, বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসার খোঁজে থাকা এক কিশোরীর অনুভূতি এই বইয়ের মূল আকর্ষণ।
৬. কবিতা ভালোবাসেন, এমন পাঠকের জন্য কোন বইটি উপযুক্ত?
আবদুল্লাহ মাহমুদ নজীবের সবুজ চাঁদে নীল জোছনা কাব্যগ্রন্থটি কবিতাপ্রেমীদের জন্য এই তালিকার একটি উল্লেখযোগ্য পছন্দ।
৭. নতুন বাংলা বইয়ের খোঁজ পেতে এই তালিকাটি কেন পড়বেন?
এই তালিকায় উপন্যাস, রোম্যান্টিক গল্প, রহস্যময় কাহিনি ও কাব্যগ্রন্থ—বিভিন্ন ধরনের বই রয়েছে। ফলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী পরবর্তী বই বেছে নিতে সুবিধা হবে।
