বাজে চক্রের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এবার তারা নবাগত কোমোর কাছে হারল ৪-১ গোলে। চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথমবার খেলতে আসা দলের কাছে বাজেভাবে হারের পর ইউনাইটেডের ড্রেসিংরুমে অশান্তি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জাতীয় দলের সতীর্থ ব্রুনো ফের্নান্দেস ও ইউনাইটেড কোচ মাইকেল ক্যারিকের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটেছে।
কোমোর ঘরের মাঠ জিউসেপ্পে সিনিগাগ্লিয়া স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড হেরেছে ৪-১ গোলে। শুরুর একাদশে থাকলেও ৬৬ মিনিটে ফের্নান্দেসকে তুলে নেন ইউনাইটেড কোচ মাইকেল ক্যারিক। তখন মাঠে নামানো হয় জোশুয়া জার্কজিকে। পুরো ৯০ মিনিট খেলতে না দেওয়ার বিষয়টি যে মানতে পারেনি, সেটা বোঝা গেছে ফের্নান্দেসের কথায়। ৩২ বছর বয়সী পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বলেন, ‘ম্যান-টু-ম্যান প্রেসিং না করা এবং কখনো কখনো পেছনের জায়গা ফাঁকা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কোচিং স্টাফ।’
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রতিনিধি হিসেবে আসেন কোচ ক্যারিক। ফের্নান্দেসের বক্তব্য নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে ক্যারিক পাল্টা জবাব দিয়েছেন। ইউনাইটেড কোচ বলেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ম্যান-টু-ম্যান পদ্ধতিতে অর্ধেক প্রেস করেছিলাম। এমন অবস্থা থেকেই একটা গোল খেয়েছি।’
২০২৬-২৭ মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলে ১১ ম্যাচ খেলেছে ম্যান ইউনাইটেড। জিতেছে কেবল ২ ম্যাচ। হেরেছে পাঁচ ম্যাচ। চার ম্যাচ ড্র করেছে। সেপ্টেম্বরে চ্যাম্পিয়নস লিগে আজারবাইজানের ক্লাব সাবাহকে ৪-০ গোলে হারানোর পর আর জেতেইনি ক্যারিকের দল।
কোচদের চাকরি যেখানে ‘মিউজিক্যাল চেয়ারে’র মতো, সেখানে বাজে পারফরম্যান্সে চাকরি হারানোর ঘটনা ঘটে হরহামেশাই। ক্যারিকও যে সেরকম ঝুঁকিতে আছেন, তা তো বোঝাই যাচ্ছে। গতকাল কোমোর কাছে ৪-১ গোলে হারের পর এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে ইউনাইটেড কোচ বলেন, ‘শুনুন, নিজের অবস্থান নিয়ে এখনো কিছু ভাবিনি। আমিও এক সময় তাঁদের (ভক্ত-সমর্থক) একজন ছিলাম, যাঁরা এমন খেলা দেখতেন। দলের পারফরম্যান্সে মোটেও খুশি হতে পারিনি।’
৩ ম্যাচে ১ জয় ও ১ হারে ৩ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের পয়েন্ট টেবিলের ২০ নম্বরে এখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ৩ ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে পিএসজি। অ্যাস্টন ভিলা, লিভারপুল, রিয়াল মাদ্রিদ, রিয়াল বেতিস প্রত্যেকেরই পয়েন্ট ৯। তবে গোল ব্যবধানের কারণে দুইয়ে অ্যাস্টন ভিলা। তিনে অবস্থান করছে লিভারপুল। চার, পাঁচে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ ও রিয়াল বেতিস।
