ছবির ক্যাপশন: .
মোঃ আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা :
প্রতিবেশী দেশ থেকে পরিকল্পিতভাবে মাদক ঢুকিয়ে যুবসমাজ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেন, "বাংলাদেশের কোথাও কিন্তু মাদকের ফ্যাক্টরি নাই। এগুলো আসলো কোথা থেকে? পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এবং মিয়ানমার থেকে। তারা পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে মাদক ঢুকিয়ে দেয় এবং দিচ্ছে, যাতে করে বাংলাদেশের যুবসমাজ ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়াতে না পারে।"
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিন্দী তাজ প্যালেস ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘মাদক নয়, শিক্ষা, খেলাধুলা ও সৃজনশীলতাই হোক তারুণ্যের শক্তি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত ডেঙ্গু ও মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এ সমাবেশের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমরা কি আমাদের দেশ গড়ব, নাকি ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাব? আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে স্পিড ধারণ করেন, সবার আগে বাংলাদেশ। সবাই মিলে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে।"
মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, "একজন বাবা কত কষ্ট নিয়ে বক্তব্য দিলেন, তার সন্তান মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমানে মাদকের অবস্থা ভয়াবহ। কোনো কোনো এলাকায় ২৩ শতাংশ। আমরা যদি এখন এই মাদকের লাগাম টেনে না ধরি, সচেতন না হই, একসময় এই দেশটি ভেঙে যাবে।"
তিনি আরও বলেন, "আজকের উপস্থিত ছাত্রছাত্রীরা বড় হয়ে এই সমাজ ও দেশের নেতৃত্ব দেবে। আজকের সন্তানরা দেশ গড়ার কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত না করলে, তাদের যদি টার্গেট না থাকে, তাহলে দেশ এগোবে কীভাবে? আর যদি ছাত্ররা নিজেদের ধ্বংস করে মাদকের দিকে ধাবিত হয়, তাহলে দেশ ঠিক থাকবে কি?"
মাদকাসক্তির উদাহরণ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ঐশী পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে ছিলেন। এই মাদকে আসক্ত হয়ে তার বাবা-মাকে মেরে ফেলেছেন। এই জায়গা থেকে আমাদের উত্তরণ ঘটাতে হবে। কোনোভাবেই মাদককে বাড়ানো যাবে না।"
ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাড়ির পাশে ডাবের খোসা, পানির পাত্রসহ বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টির পানি জমে থাকলে কয়েকদিন পর সেখানে ডেঙ্গুর মশা তৈরি হতে পারে। এসব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে ডেঙ্গু থেকে বাঁচা সম্ভব। সচেতন হওয়া ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধের কোনো বিকল্প নেই।
সমাবেশে বিগত সরকারের সমালোচনা করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, "ফ্যাসিস্ট সরকার এমন কোনো জঘন্য কাজ নেই, যে ১৭ বছরে সেটা তারা করে নাই। আজকে তাদের অনুশোচনা তো নেই-ই, উল্টো ঘোষণা দেয়, অমুক তারিখে আসবে। যে মানুষগুলোকে হত্যা করেছেন, গুম করেছেন, খুন করেছেন, একবারও অনুশোচনা হয় না? অথচ দেশে ফেরার চিন্তা করছেন, কোন জগতে আছেন আপনারা? আপনাদের কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষ আপনাদের বিতাড়িত করেছে। আগে আপনাদের অনুশোচনা হতে হবে, যে আমরা ভুল করেছি। এরা গণতন্ত্রের শত্রু, দেশের শত্রু। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এই দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে।"
ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সামছুল আলম, কেরানীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল কুদ্দুস এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ইমাম, পুরোহিতসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক।
