আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রস্তুতির জন্য হাতে সময় ছিল মাত্র সাড়ে তিন সপ্তাহ। দলও তখনও পুরোপুরি গুছিয়ে ওঠেনি। বিদেশি ফুটবলারদের কয়েক জন যোগ দিয়েছিলেন মরশুম শুরুর ঠিক আগে। এমন পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়ান সুপার লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত করল চার্চিল ব্রাদার্স। রবিবার ফতোরদায় দু’বারের আইএসএল চ্যাম্পিয়ন মুম্বই সিটি এফসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতায় স্বপ্নের সূচনা করল গোয়ার দল। গোল করেন গৌরব বোরাহ ও সেবাস্তিয়ান গুতিয়েরেজ।
ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য দাপট ছিল মুম্বই সিটির। বলের দখল রাখা থেকে শুরু করে আক্রমণ তৈরি, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল তারা। তুলনায় চার্চিল ব্রাদার্সকে রক্ষণ সামলে সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হয়। তবে প্রথমার্ধে গোল হজম না করে বিরতিতে সমতা বজায় রাখাই ম্যাচে ফেরার রাস্তা খুলে দেয় তাদের সামনে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কৌশল বদলান চার্চিলের কোচ দিমিত্রিস দিমিত্রিউ। আলেকজান্দ্রে ইয়েউলের পরিবর্তে গৌরব বোরাহকে মাঠে নামান তিনি। ৫৭ মিনিটে সেই পরিবর্তনই কাজে আসে। ছোট কর্নার থেকে অনিল গাঁওকরের বাড়ানো ক্রসে হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন বোরাহ। আইএসএলে চার্চিল ব্রাদার্সের প্রথম গোল এনে দিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
এরপর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল চার্চিল। ওয়েড লেকের দূরপাল্লার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। পাল্টা মুম্বইও একাধিক পরিবর্তন করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায়। কিন্তু চার্চিলের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা।
ম্যাচের ৮৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে চার্চিলের জয় কার্যত নিশ্চিত করেন কলম্বিয়ান ফুটবলার সেবাস্তিয়ান গুতিয়েরেজ। ত্রিজয় ডায়াসের পরিবর্তে মাঠে নামা স্টেন্ডলি ফার্নান্ডেজের সঙ্গে বোঝাপড়া তৈরি করে বক্সের ভিতর থেকে গোল করেন তিনি। ফলে ম্যাচের শেষ দিকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় চার্চিল।
যদিও সংযুক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে মুম্বইয়ের হয়ে ব্যবধান কমান সার্জিও লামাস। আকাশ মিশ্রকে ফাউল করার কারণে পেনাল্টি পায় মুম্বই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় ধরে রাখে চার্চিল ব্রাদার্স।
ম্যাচের পর কোচ দিমিত্রিউ জানান, প্রথমে প্রতিপক্ষের খেলার ধরন বুঝে নিয়ে নিজেদের কৌশলে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। তাঁর কথায়, “আমরা দেখতে চেয়েছিলাম প্রতিপক্ষ কীভাবে খেলছে। পরে নিজেদের খেলা শুরু করি এবং কৌশলগত কিছু পরিবর্তন এনে আমরা ম্যাচটা জিতেছি।”
উল্লেখ্য, আইএসএলে জায়গা করে নেওয়ার পথটাও সহজ ছিল না চার্চিলের। গত অগস্টে টাটা স্টিলের কাছ থেকে মাত্র ১০০ টাকার প্রতীকী মূল্যে জামশেদপুর এফসির পরিচালনাকারী সংস্থা অধিগ্রহণ করে গোয়ার ক্লাবটি। সেই সঙ্গে ১২ জন ফুটবলার এবং দু’জন কোচের চুক্তির দায়িত্বও তাদের হাতে আসে। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন মরশুমের জন্য দলকে প্রস্তুত করতে হয়। কোচের দাবি অনুযায়ী, মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে নামার আগে প্রায় চার সপ্তাহে ৩৭ থেকে ৩৮টি অনুশীলন সেশন করেছিল দল।
তবে একটি জয়েই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ চার্চিল শিবির। কারণ, সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। আগামী ১৮ অক্টোবর ফতোরদায় তাদের প্রতিপক্ষ ইস্টবেঙ্গল। সেই ম্যাচে জয়ের ধারা বজায় রাখাই এখন লক্ষ্য গোয়ার ক্লাবের।
