কালবেলা · আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশের আন্দোলনের আদলে ভারতে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে
১৬/১০/২০২৬

বাংলাদেশের আন্দোলনের আদলে ভারতে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিজেপি নেতা রাজনাথ সিং। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার নামে অরাজকতার রাজনীতি করছেন রাহুল ও তার মিত্ররা। খবর দ্য হিন্দুর।
উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌয়ে বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাজনাথ বলেন, দিল্লিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত। তার দাবি, এই বিক্ষোভের উদ্দেশ্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে প্রতিবাদ নয়; বরং রাজনৈতিক সংঘাতের হাতিয়ার হিসেবে দেশের তরুণদের ব্যবহার করা।
রাজনাথ বলেন, ‘বাংলাদেশের আদলে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। তারা সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যেই বলেছে, সরকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছে। আরেকজন সরকার ফেলে দেওয়ার কথা বলছেন। এতে স্পষ্ট, তাদের একমাত্র লক্ষ্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা এবং দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা।’
‘সরকার পরিবর্তন’, ‘প্রতিরোধ’ এবং ‘সংসদ থেকে নয়, রাজপথ থেকেই পথ বের হয়’; এ ধরনের বক্তব্যের উল্লেখ করে রাজনাথ বলেন, দিল্লিতে যা ঘটছে, তা অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে ভারতের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার নিন্দনীয় প্রচেষ্টা।
রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র রক্ষার নামে অচলাবস্থার রাজনীতি না করে রাহুলজির উচিত জনমতকে সম্মান করা এবং নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা করা।’ সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ ও দেশ গঠনের পথ বেছে নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
রাজনাথের অভিযোগ, পকেটে সংবিধান নিয়ে ঘুরলেও রাহুল গান্ধী এখন অরাজকতা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের অর্থ অরাজকতা ছড়ানো, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা কিংবা দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার লাইসেন্স নয়।
নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কংগ্রেস নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন রাজনাথ। তিনি বলেন, কংগ্রেসের ইতিহাসে বেশ কিছু কালো অধ্যায় রয়েছে।
রাজনাথের দাবি, ১৯৯৩ সালে কংগ্রেস সরকার আকস্মিকভাবে নির্বাচন কমিশনে পরিবর্তন এনে রাতারাতি দুজন নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এন গোপালস্বামী রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখে নির্বাচন কমিশনার নবীন চাওলাকে অপসারণের সুপারিশ করেছিলেন। চাওলা নির্বাচন কমিশনের সংবেদনশীল তথ্য কংগ্রেস নেতাদের কাছে সরবরাহ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছিল।
রাজনাথের অভিযোগ, কংগ্রেস তখন চাওলাকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও নিয়োগ করেছিল, কারণ তিনি নেহরু-গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কংগ্রেসের আমলে নির্বাচন কমিশনারদের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম এস গিলের পরবর্তী সময়ে দুবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
ভোটার পরিচয়পত্র চালুর আগের সময়ের প্রসঙ্গ টেনে রাজনাথ বলেন, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশে ভোটার পরিচয়পত্র ছাড়াই নির্বাচন হয়েছে। তার দাবি, ১৯৯৩ সালের আগে ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত করার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছিল না।
তিনি বলেন, ভোটার পরিচয়পত্র চালুর পর থেকে কংগ্রেস লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে পারেনি। ভোট চুরির অভিযোগ তোলার বদলে কংগ্রেসের কাজের হিসাব দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনাথ বলেন, ‘কংগ্রেস অভিযোগ করে তাদের ভোট চুরি হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, উত্তর প্রদেশে কংগ্রেস সর্বশেষ ১৯৮৫ সালে জিতেছিল। ১৯৮৪ সালের পর দলটি কখনো দেশজুড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তখন বিজেপির মাত্র দুটি আসন ছিল। এখন আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন, এটা ভোট চুরি, নাকি কাজ চুরি। রাহুল গান্ধীকে এর জবাব দিতে হবে।’
কংগ্রেস মহাত্মা গান্ধীর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করার দাবি করলেও সহিংসতা ও অরাজকতার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের কথা বলে দেশের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চাইছে বলে অভিযোগ করেন রাজনাথ।
তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস আজ দেশে সহিংসতা ও অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায় এবং বাংলাদেশে পরিস্থিতির মতো অবস্থা তৈরির স্বপ্ন দেখছে। এ কারণে গান্ধীর নাম ব্যবহারের নৈতিক অধিকার দলটি পুরোপুরি হারিয়েছে।’
সূত্র: দ্য হিন্দু
মূল প্রতিবেদনে যান ↗