প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৩ পিএম
স্বল্প বাজেটে নির্মিত কন্নড় সিনেমা ‘প্রেমাদা উরালি’ ২০২৬ সালে বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। মাত্র ৩ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত সিনেমাটি এরই মধ্যে ১১৩ কোটি রুপির বেশি আয় করেছে। লাভের হারের দিক থেকে সিনেমাটি কন্নড় ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে লাভজনক চলচ্চিত্রের রেকর্ড গড়েছে। এমনকি এ ক্ষেত্রে পেছনে ফেলেছে ‘কেজিএফ’ ও ‘কান্তারা’র মতো ব্লকবাস্টার সিনেমাকেও।
গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত ‘প্রেমাদা উরালি’ মূলত একটি রোমান্টিক-পারিবারিক ড্রামা। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে বাবা ও ছেলের সম্পর্ক। তাদের পরিবারে আধুনিক এক পুত্রবধূর আগমনের পর বদলে যেতে থাকে পুরো পরিবারের চিত্র। পাশাপাশি সামাজিক রীতিনীতির বিরুদ্ধে এক নারীর সংগ্রামও তুলে ধরা হয়েছে সিনেমাটিতে। গ্রামের সাধারণ মানুষের আবেগ, সম্পর্ক ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গল্পের মিল থাকায় দর্শকদের মধ্যে সিনেমাটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
তবে বক্স অফিসে সাফল্য পাওয়া এই সিনেমার নির্মাণ ও মুক্তির পথ মোটেও সহজ ছিল না। সিনেমাটির চিত্রগ্রাহক রাজকান্ত এসকে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, প্রচার ও মুক্তির খরচ জোগাতে তাঁরা মাত্র ১৫ লাখ রুপির সহায়তা চেয়ে বড় প্রযোজকদের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি।
সিনেমাটি সাফল্য পাওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। যাঁরা একসময় তাঁদের ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন আক্ষেপ করছেন এবং পরিচালকের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে জানান রাজকান্ত।
বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে শুটিংয়েও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে পুরো দলকে। শতাধিক কলাকুশলীর থাকার জন্য ভালো কোনো হোটেলের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত একটি সাধারণ মিলনায়তন ভাড়া নেওয়া হয়, যেখানে মেঝেতেই রাত কাটাতেন শিল্পী ও কলাকুশলীরা। তবে পরিচালক মনোজ কুমারের নিজ গ্রামে শুটিং হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন।
সিনেমাটির প্রচারেও ছিল ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। সাধারণত বড় বাজেটের সিনেমার প্রচারে নানা আয়োজন করা হলেও ‘প্রেমাদা উরালি’র নির্মাতাদের হাতে সে ধরনের আয়োজনের মতো অর্থ ছিল না। তাই পরিচালক বিকল্প পদ্ধতি বেছে নেন। কর্ণাটকের অটোরিকশাগুলোর পেছনে ১০ হাজার রেডিয়াম স্টিকার লাগানোর ব্যবস্থা করেন তাঁরা। পাশাপাশি বিয়ের আমন্ত্রণপত্রের আদলে কার্ড ছাপিয়ে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এসব কার্ডে সিনেমাটি দেখতে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
মুক্তির আগে শেষ মুহূর্তে বেশ কয়েকটি সিনেমা হলের মালিক শো বাতিল করলেও এখন চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মুক্তির ২৯তম দিনেও সিনেমাটির সাত শর বেশি শো চলছে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিটি শো হাউসফুল যাচ্ছে। দর্শকদের অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে কোথাও কোথাও সিনেমা হলের ভেতরে বাড়তি চেয়ার ও কার্পেট বিছানোর প্রয়োজন হচ্ছে।
প্রযোজনা ও প্রচারের অর্থসংকট, বড় প্রযোজকদের প্রত্যাখ্যান এবং শুটিংয়ের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ‘প্রেমাদা উরালি’র এই সাফল্য এখন ভারতীয় সিনেমায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। নির্মাতাদের সীমিত সামর্থ্য ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় তৈরি সিনেমাটির সাফল্য স্বল্প বাজেটের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য নতুন করে আশার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
