ভোলার লালমোহন উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মো. ফিরোজ (৪৫) নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় প্রতিবেশী মো. কাজল নামে এক অভিযুক্ত যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন লালমোহন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার।
নিহত ফিরোজ উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বারের দোকান সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. কাশেম আলীর ছেলে। এছাড়া তিনি কালমা ইউনিয়নের (উত্তর) যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ফিরোজ। এর আগে, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরের দিকে তার নিজ বাড়িতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ফিরোজ একই বাড়ির কাজলের ঘরের পাশে তার নিজস্ব জমিতে শিমগাছের চারা রোপণ করেন এবং সেখানে শিম গাছের জন্য ঝোঁপ দেন। শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজের পর ওই ঝোঁপ অভিযুক্ত কাজলের স্ত্রী জান্নাত কেটে ফেলেন এবং জুমার নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরে যুবদল নেতা ফিরোজ তা দেখতে পান। পরে বাধা দিলে দুই জনের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর জান্নাতের স্বামী কাজল ঘটনাস্থলে গিয়ে ফিরোজকে দা দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন।
পরে ফিরোজকে উদ্ধার করে প্রথমে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরবর্তীতে ফিরোজের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে স্বজনরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। শনিবার বিকেলে ঢাকা ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালের লাইফ সার্পোটে চিকিৎধীন অবস্থায় মারা যান। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, এ ঘটনা অভিযুক্ত কাজলকে আমরা আটক করে পুলিশ হেফাজতে রেখেছি। থানায় মামলা হলে তাকে সে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে এবং তদন্ত চলছে। এছাড়া এ ঘটনায় ঢাকায় ডিএমপি অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করছেন বলেও জানান তিনি।
মো.খাইরুল ইসলাম/এসএইচএ
