দামি মোবাইল ফোনের কথা উঠলেই সাধারণত আইফোন কিংবা স্যামসাংয়ের ফ্ল্যাগশিপ মডেলের কথা মনে আসে। এসব ফোনের দাম কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু বিলাসবহুল ফোনের দুনিয়া একেবারেই আলাদা। সেখানে ফোনের দাম নির্ধারিত হয় শুধু প্রযুক্তি দিয়ে নয়, বরং সোনা, প্ল্যাটিনাম, বিরল হীরা এবং বিশেষ নকশার মতো উপাদানের ওপরও।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই তালিকার বহুল আলোচিত নাম ‘ফ্যালকন সুপারনোভা আইফোন ৬ পিঙ্ক ডায়মন্ড’। ফোনটির প্রচারিত মূল্য ৪ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার বা ৪৮.৫ মিলিয়ন ডলার। ফোনটির বহুল প্রচারিত মূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। তবে এই দামে ফোনটি বিক্রি হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ফোন নয়, যেন এক টুকরো গয়না!
ফোনটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য এর পেছনে বসানো বড় গোলাপি হীরা। ফোনটির বিলাসবহুল নকশায় সোনা, রোজ গোল্ড কিংবা প্ল্যাটিনামের মতো মূল্যবান ধাতুর ব্যবহারের কথাও প্রচার করা হয়। ফলে এটি কেবল একটি স্মার্টফোন নয়, বরং মূল্যবান অলংকারের মতোও বিবেচিত হয়।
তবে এত বিপুল দামের পেছনে আধুনিক প্রযুক্তির চেয়ে মূল্যবান উপকরণ ও বিশেষ নকশার ভূমিকা বেশি। ফোনটির ভিত্তি আইফোন ৬—অর্থাৎ এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বর্তমান প্রজন্মের স্মার্টফোনের সমতুল্য নয়।
এত দাম কেন?
এই ফোনের দাম নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বিরল গোলাপি হীরা এবং মূল্যবান ধাতুর ব্যবহার। প্রাকৃতিক গোলাপি হীরা অত্যন্ত দুর্লভ হওয়ায় এর মূল্য অনেক বেশি হতে পারে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফোনটির এক্সক্লুসিভ নকশা ও বিলাসবহুল পণ্যের পরিচিতি।
সাধারণ স্মার্টফোনে অ্যালুমিনিয়াম, কাচ কিংবা স্টিলের মতো উপকরণ ব্যবহৃত হলেও এ ধরনের বিশেষ সংস্করণে দামি উপকরণই পণ্যের মূল্যকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়।
সবচেয়ে দামি মানেই কি সবচেয়ে উন্নত?
একেবারেই নয়। ফোনের দাম বেশি হলেই সেটি প্রযুক্তির দিক থেকে সবচেয়ে উন্নত হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফ্যালকন সুপারনোভা আইফোন ৬ পিঙ্ক ডায়মন্ডের ক্ষেত্রেও মূল আকর্ষণ এর নকশা, মূল্যবান উপকরণ এবং বিরলতার ধারণা। ক্যামেরা, প্রসেসর, ব্যাটারি কিংবা সফটওয়্যারের সক্ষমতার বিচারে আধুনিক ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলো অনেক এগিয়ে থাকতে পারে।
এত টাকা দিয়ে ফোন কেনেন কারা?
এ ধরনের বিলাসবহুল ফোনের সম্ভাব্য ক্রেতা মূলত অতি ধনী ব্যক্তি ও সংগ্রাহক, যাঁদের কাছে পণ্যের ব্যবহারিক সুবিধার পাশাপাশি এর বিরলতা ও বিশেষত্বও গুরুত্বপূর্ণ।
বিষয়টি অনেকটা বিলাসবহুল ঘড়ির মতো। সাধারণ ঘড়ি আর কোটি টাকার ঘড়ি—দুটিই সময় দেখায়। কিন্তু দামি ঘড়ির মূল্য নির্ধারণে যেমন উপকরণ, কারুকাজ ও ব্র্যান্ডের ভূমিকা থাকে, তেমনি এই ফোনের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তির চেয়ে বিলাসিতা ও বিশেষত্ব বেশি গুরুত্ব পায়।
সব মিলিয়ে, ফ্যালকন সুপারনোভা আইফোন ৬ পিঙ্ক ডায়মন্ডের ৪৮.৫ মিলিয়ন ডলারের মূল্য বহুল প্রচারিত হলেও, এটিকে নিশ্চিতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে দামি বিক্রি হওয়া ফোন বলা যায় না। বরং এটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফোন হিসেবে বহুল আলোচিত একটি বিলাসবহুল স্মার্টফোনের উদাহরণ।
