মালদহে বিজেপি কর্মী খুনে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল একজনকে। পুলিশ তদন্তে নেমে আরও দু’জনকে পাকড়াও করা হল। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত-সহ ৩ জনকে এখনও ধরা হয়েছে। গতকাল, বৃহস্পতিবার রাতে পাকড়াও হওয়া ওই দু’জনের নাম শত্রু ঘোষ এবং ছোটন ঘোষ। ধৃতরা তৃণমূল কর্মী বলেই এলাকায় পরিচিত বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। এর আগে রঞ্জন ঘোষ নামে এক তৃণমূল কর্মীকে ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
বুধবার, দশমীর সন্ধ্যায় মালদহের ইংরেজবাজার থানার রামকেলি এলাকায় খুন হন বিজেপি কর্মী সমীর ঘোষ। অভিযোগ, এলাকার মানুষজন যখন প্রতিমা বিসর্জনে ব্যস্ত, সেই সময় সমীরের বাড়িতে বেশ কয়েকজন ঢুকে পড়ে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁর উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এমনকী সমীরকে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা গুলি চালানো হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
মৃতের ভাই বিবেক ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁর দাদা অনেকদিন ধরেই বিজেপির কর্মী ছিলেন। অভিযুক্তরা তৃণমূলের কর্মী বলে দাবি করেন তিনি। বিবেকের কথায়, সমীরের সঙ্গে এলাকার তৃণমূলকর্মীদের দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। তার জেরেই দশমীর দিন তাঁর দাদার উপর হামলা চালানো হয়। পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে সেই রাতেই রঞ্জন ঘোষকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ঘটনার মূল অভিযুক্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।
ঘটনার পরেই পরিবারের তরফে আটজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে শুরু হয় তল্লাশি। জানা যায়, সেই সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে ঘটনার পরেই সমীরের বাড়িতে পৌঁছন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন। পরে বিজেপি জেলা সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় জানান, নিহত যুবক বিজেপি কর্মী। বিধানসভা ভোটের আগে তাঁকে ওই এলাকায় বুথ দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কেন এই ঘটনা তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
একাদশীর রাতে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও দুই তৃণমূল কর্মীকে পাকড়াও করা হয়েছে। আজ, শুক্রবার ধৃত শত্রু ঘোষ এবং ছোটন ঘোষকে মালদহ জেলা আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতদের নিজ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। আর কারা ওই খুনে জড়িত? খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
