আন্তর্জাতিক: ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানোর কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি বা বেশি দূর এগিয়ে ফেলেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে করে তেহরানের সঙ্গে চুক্তি, দরকষাকষি বা কূটনৈতিক আলোচনার জন্য ঠিক কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, ওয়াশিংটন তা চিহ্নিত করতেই এখন চরম হিমশিম খাচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর ইয়ংসটাউনে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় হাজারো সমর্থকের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিতর্কিত ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন।
ইয়ংসটাউনের নির্বাচনী মঞ্চে ট্রাম্প অত্যন্ত খোলামেলাভাবে বলেন, “আমরা প্রতিপক্ষের নেতাদের নির্মূলের ক্ষেত্রে হয়তো অতিরিক্ত বেশি দূরে চলে গেছি। কারণ পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, আমরা আর বুঝতে পারছি না বর্তমানে কার সঙ্গে কথা বলব বা আলোচনা শুরু করব।”
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি দাবি করেন, এখন আর কেউই নাকি স্বেচ্ছায় ইরানের প্রেসিডেন্ট হতে চাইছেন না। যদিও ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাম্প সততার সঙ্গে স্বীকার করে বলেন, কার্যকর আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট প্রতিনিধি খুঁজে বের করা তাঁদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে এবং তারা বিষয়টি নিয়ে সত্যিই বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন।
বক্তব্যে ট্রাম্প তাঁর আগের বিতর্কিত দাবির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, চলমান সংঘাতে ইরান তাদের বিমানবাহিনী এবং ১৫৯টি রণতরী বা নৌযান হারিয়েছে। এগুলো এখন সমুদ্রের তলদেশে সুন্দরভাবে বিশ্রাম নিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ইউকেএমটিও’ (UKMTO) জানিয়েছে, গত ১ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ওই অঞ্চলের কৌশলগত জলসীমায় বাণিজ্যিক জলযানগুলোকে লক্ষ্য করে অন্তত ১৯টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
