সরকারের প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ ও নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। আইএসপিআর জানিয়েছে, এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড নিজস্ব সক্ষমতায় নৌবাহিনীর জন্য নির্মাণাধীন ৩টি এলসিটি-এর মধ্যে তৃতীয় এলসিটি (এলসিটি-১০৪) আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ করেছে। সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (ম্যাটেরিয়েল) রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মাকসুদ আলম উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এলসিটি-১০৪ লঞ্চ করেন। এ ছাড়াও, অনুষ্ঠানে সামরিক ও অসামরিক বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডে নিজস্ব সক্ষমতায় এবং কানাডার ভার্ড মেরিনের নকশায় নির্মিত হয়েছে এলসিটি-১০৪। দৈর্ঘ্য ৭৪.৫ মিটার, প্রস্থ ১৩ মিটার এবং ১৫০৫ মেট্রিক টন ডিসপ্লেসমেন্ট-বিশিষ্ট এই জাহাজটি ঘণ্টায় ১৭ মাইল গতিতে চলাচল করতে সক্ষম। সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে এম্ফিবিয়াস অভিযানে স্পেশাল ফোর্স পরিবহনের পাশাপাশি সামরিক ভারী সরঞ্জামাদি ও ভেহিক্যাল উপকূলীয় এবং দ্বীপাঞ্চলে স্থানান্তরের জন্য এ ধরনের খধহফরহম ঈৎধভঃ ঞধহশ (খঈঞ) জাহাজ ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়াও, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবিক সহায়তা, উদ্ধার অভিযান, অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ এবং দুর্গম উপকূলীয় এলাকা বা দ্বীপাঞ্চলে লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে এ জাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উল্লেখ্য, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডে নির্মিত ৩টি এলসিটির মধ্যে প্রথম এলসিটি-১০২ গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং দ্বিতীয় জাহাজ এলসিটি-১০১ গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬-এ লঞ্চিং করা হয়।
খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ওঝঙ সনদপ্রাপ্ত এ প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঞধী ঈধৎফ সম্মাননা এবং এৎববহ ঋধপঃড়ৎু অধিৎফ অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ৮০০টিরও বেশি জাহাজ ও জলযান নির্মাণ এবং ২,৫০০টিরও বেশি জাহাজ ও জলযান মেরামত করেছে। সামগ্রিকভাবে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প, মেরিটাইম খাত, ব্লু ইকোনমি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এলসিটিসমূহ দেশীয়ভাবে নির্মাণের ফলে আমদানিনির্ভরতা হ্রাসের পাশাপাশি দেশের অর্থ দেশেই রাখা সম্ভব হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
