প্রেমের গল্পে কিছু মুহূর্ত থাকে, যা সারা জীবন স্মৃতির পাতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকে। বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশ্মিকা মান্দানার প্রেমের গল্পেও তেমনই একটি মুহূর্ত রয়েছে। রাশ্মিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে ইতালিতে বিশেষ পরিকল্পনা করেছিলেন বিজয়। কিন্তু পছন্দসই আংটি খুঁজে না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায় সেই পরিকল্পনা। পরে উদয়পুরে নিজেদের বিয়ের আয়োজনের প্রথম দিনেই রাশ্মিকাকে হাঁটু গেড়ে বসে বিয়ের প্রস্তাব দেন এই অভিনেতা।
সম্প্রতি ‘কফি উইথ করণ’ অনুষ্ঠানের নবম মৌসুমে নিজেদের সম্পর্কের গল্প বলতে গিয়ে এ কথা জানান বিজয়। তার ভাষ্য, রোমান্টিক আয়োজন কিংবা বড় কোনো অঙ্গভঙ্গির মানুষ তিনি নন। তবে রাশ্মিকার জীবনে বিয়ের প্রস্তাব পাওয়ার একটি বিশেষ স্মৃতি থাকুক, সেটি চেয়েছিলেন তিনি। নিজের স্বভাবের কারণে রাশ্মিকা যেন এমন একটি মুহূর্ত থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতেই প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বিজয়।
ইতালিতে পরিকল্পনা, কিন্তু মেলেনি পছন্দের আংটি
বিজয় জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ের কয়েক মাস আগে, ডিসেম্বরে ইতালি সফরের সময় রাশ্মিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন তিনি। প্রস্তাব দেওয়ার জায়গা ও পরিকল্পনা ঠিক থাকলেও পছন্দসই আংটি খুঁজে না পাওয়ায় তা আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
নিজের পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে বিজয় বলেন, ‘আমি চাইনি রাশ্মিকার জীবনে বিয়ের প্রস্তাব পাওয়ার কোনো গল্প না থাকুক। ফেব্রুয়ারিতে আমাদের বিয়ের আগে, ডিসেম্বরে যখন আমরা ইতালিতে ছিলাম, তখন আমার মনে হয়েছিল, আমি রোমান্টিক ধরনের মানুষ নই বলে ও যেন বিয়ের প্রস্তাব পাওয়ার বিশেষ স্মৃতি থেকে বঞ্চিত না হয়। ইতালিতেই প্রস্তাব দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পছন্দসই আংটি খুঁজে পাইনি।’
বিয়ের আয়োজনেই পূর্ণ হলো সেই ইচ্ছা
ইতালিতে পরিকল্পনা সফল না হলেও রাশ্মিকাকে প্রস্তাব দেওয়ার ইচ্ছা ছাড়েননি বিজয়। শেষ পর্যন্ত উদয়পুরে তাদের বিয়ের আয়োজনের প্রথম দিনেই সেই বিশেষ মুহূর্তের আয়োজন করেন তিনি।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে সংগীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের এক জায়গায় জড়ো হতে বলেন বিজয়। এরপর সবার উপস্থিতিতে হাঁটু গেড়ে বসে রাশ্মিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। বন্ধুদের সঙ্গে এই মুহূর্ত ভাগ করে নিতে চেয়েছিলেন অভিনেতা, যাতে রাশ্মিকার কাছে ঘটনাটি আরও স্মরণীয় হয়ে থাকে।
সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে বিজয় বলেন, ‘উদয়পুরে আমাদের বিয়ের প্রথম দিনেই আমি ওকে প্রস্তাব দিই। সেদিন ছিল সংগীতের রাত। অনুষ্ঠান শেষে আমি আমার সব বন্ধুকে আসতে বলি। আমি চেয়েছিলাম, আমাদের বন্ধুদের মাঝে থাকতে থাকতেই ওকে প্রস্তাব দিতে। এরপর আমি হাঁটু গেড়ে বসে ওকে বিয়ের প্রস্তাব দিই। আমি চাইনি ওর কাছ থেকে সেই মুহূর্তটি কেড়ে নিতে।’
পর্দার রসায়ন থেকে বাস্তবের জীবনসঙ্গী
বিজয় ও রাশ্মিকার সম্পর্কের গল্পের শুরু পর্দায়। ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া তেলুগু সিনেমা ‘গীতা গোবিন্দম’-এ প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করেন তারা। সিনেমাটিতে দুজনের রসায়ন দর্শকদের নজর কাড়ে। পরের বছর, ২০১৯ সালে ‘ডিয়ার কমরেড’ সিনেমায় আবারও একসঙ্গে দেখা যায় তাদের।
দুটি সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার পর থেকেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। তবে দীর্ঘ সময় নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন আড়ালেই রেখেছিলেন এই তারকা জুটি।
অবশেষে ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরে ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে বিয়ে করেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশ্মিকা মান্দানা। তাদের বিয়ের আয়োজনে তেলুগু ও কোডাভা, উভয় ঐতিহ্যের রীতিনীতি অনুসরণ করা হয়। ইতালিতে শুরু হওয়া একটি পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত উদয়পুরে এসে পূর্ণতা পায়।
/অ
