সৌদিগামী ফ্লাইট পরিচালনায় নতুন সময়সূচি ঘোষণা
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণের মুখে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দর প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকায় আগামী ২৫ অক্টোবর রিয়াদগামী একটি ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। গতকাল বুধবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সৌদি বিমানবন্দরে হামলা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ ২৫ অক্টোবর রাতে রিয়াদের উদ্দেশে ফ্লাইটটি যাত্রা করবে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে রিয়াদগামী অন্য ফ্লাইটগুলো পরিচালনার বিষয়েও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দাম্মামগামী ফ্লাইট গতকাল থেকে পুনরায় চালু হয়েছে। আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ঢাকা থেকে দাম্মামের উদ্দেশে ফ্লাইট ছেড়ে যাবে। বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজের মাধ্যমে এসব ফ্লাইট পরিচালিত হবে।
আরও পড়ুন
এ ছাড়া ঢাকা থেকে জেদ্দার উদ্দেশে আজ থেকে প্রতিদিন দুটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। মদিনাগামী ফ্লাইটগুলোও ১৮ অক্টোবর থেকে নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজের মাধ্যমে এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা পর্যন্ত মদিনাগামী ফ্লাইটের কার্যক্রম ও সময়সূচি অপরিবর্তিত থাকবে।
টিকিট কেনা, বুকিং এবং ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয় কেন্দ্রে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বিমান।
আরও পড়ুন
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হলো দুর্গোৎসব
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব।ছবি: গতকাল রাজধানীর বছিলা এলাকার তুরাগ নদের তীর থেকে তোলা
-->শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসবের পাঁচ দিনের আনুষ্ঠানিকতা। গতকাল বুধবার রাজধানীর ৩৩টি স্থানে প্রতিমা বিসর্জন দেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এর মধ্যে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ওয়াইজঘাটে সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ জন্য এখানে ছিল ভক্তদের উল্লেখযোগ্য সমাগম। বিষাদ আর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান তারা, কামনা করেন নিজের ও পরিবারের মঙ্গল।
এ বছর উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপন করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকায় পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবে মণ্ডপগুলোতে পুণ্যার্থী ও ভক্তদের ঢল নামে।
গতকাল দুপুর থেকেই ঢাকঢোল, কাঁসর-ঘণ্টার বাদ্যের তালে তালে রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে শোভাযাত্রা করে প্রতিমাগুলো বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে আনা হয়। পরে নৌকাযোগে সেগুলো নদীর মাঝখানে নিয়ে দেওয়া হয় বিসর্জন। এ সময় চারদিকে ছিল বিষাদের সুর। ভক্তদের কারও চোখে দেখা যায় অশ্রু, কারও ঠোঁটে শোনা যায় দেবীর বন্দনা। কেউ শেষ মুহূর্তে মায়ের কাছে মঙ্গল কামনা করেন। কেউবা নদীর পানি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের শরীরে ছিটিয়ে নেন।
আরও পড়ুন
গতকাল দশমীর সকালে মণ্ডপ ও মন্দিরে পূজার অন্যতম প্রধান আচারে অংশ নেন নারীরা। দুর্গার পায়ে সিঁদুর নিবেদন করে তারা দেবীর শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর একে অপরের গায়ে সিঁদুর মেখে জীবনের সমৃদ্ধি কামনা করেন।
এদিকে প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে ঢাকা মহানগরীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশন) মো. শহীদুল্লাহ। বিসর্জন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। এবার ঢাকা মহানগরীর ৩৩টি পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিসর্জন হয়েছে ওয়াইজঘাট এলাকায়।
গতকাল প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি নিয়ে পলাশী মোড়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), এসআরইউ, সোয়াট ও বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং এসআরবির সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
আরও পড়ুন
আজ খুলনা-বাগেরহাট যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট জেলা সফরে আসছেন। তার সফরকে ঘিরে দুই জেলার নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি নেই বলে জানিয়েছেন খুলনা জেলা বিএনপির নেতারা।
দলটির একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পিছিয়ে থাকা খুলনা-বাগেরহাটের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে আসছেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, আজ সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ শেষে খুলনার দাকোপের নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন। এরপর তিনি লঞ্চে করে বাগেরহাটের মোংলায় বানৌজা মোংলা জেটিতে যাবেন ও দুপুর পৌনে ২টায় ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় যোগ দেবেন। বেলা ৩টায় মোংলা বন্দরের জেটি ও সাড়ে ৩টায় প্রস্তাবিত মোংলা ইকোনমিক জোন এলাকা পরিদর্শন করবেন।
আরও পড়ুন
জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, এ অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও কীভাবে এখানকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন করা যায় তা সরাসরি দেখতে প্রধানমন্ত্রী খুলনা-বাগেরহাটে আসছেন।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাবনাটা এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। মানুষ চান এই অঞ্চলটি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হোক, যা বিগত ১৫-১৬ বছরে হয়নি। এবার সেই দ্বার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। এই সফরকে ঘিরে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়বে।
ইপিজেড সচল হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ–তিনি দেখবেন, জানবেন এবং সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে মোংলায় ইকোনমিক জোন তৈরি হলে বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানান মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা। তিনি বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। এই বন্দর দিয়ে মালামাল পরিবহনের সুবিধার্থে মোংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০০ একর জমি উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরবর্তী সময়ে আরও ২০০ একর জমির ওপর ইপিজেড করা হবে।
খুলনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর খুলনায় প্রথম আসছেন তারেক রহমান। এ নিয়ে খুলনার মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এ সফরে প্রধানমন্ত্রী এই অঞ্চলের উন্নয়নের কী বার্তা দেবেন, মানুষ সে জন্য অপেক্ষা করছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে মোংলা ইকোনমিক জোন, বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য বিনিয়োগ কর্মসংস্থান আরও গতিশীল হবে–এমনটাই সবাই প্রত্যাশা করছেন।
পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোংলার আকরাম পয়েন্টে ভাসমান এলএনজি স্টেশন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করবেন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন
সাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধনে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে: তথ্যমন্ত্রী
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
ভোলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। ছবি: খবরের কাগজ
-->সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। এ বিষয়ে বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্রিকার মালিকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে নিজের সংসদীয় আসন ভোলা-১-এর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।
ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, সাইবার সিকিউরিটি থেকে আরম্ভ করে অন্যান্য আইন আমরা সংশোধন করার চেষ্টা করছি। যারা স্টেকহোল্ডার আছেন, তাদের সঙ্গে বসছি। বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্রিকার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করছি, কীভাবে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া যায়। যাতে আপনারা (সাংবাদিক), আমরা এবং সাধারণ মানুষ সুরক্ষা পান। এটি চলমান প্রক্রিয়া। আশা করি, সামনে এ বিষয়ে ভালো কিছু আসবে।
আরও পড়ুন
দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই এ বিষয়ে কথা বলে আসছেন তিনি। এবার হিন্দু-মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষকে যথেষ্ট নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। পূজা উদযাপনকারীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আশঙ্কা থাকলে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার পর্যবেক্ষণে, এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা চোখে পড়েনি। আনন্দমুখর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন।
এদিকে নেত্রকোনায় সাংবাদিক হত্যার ঘটনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু সাংবাদিক না, এটা যে কারোই যদি ঘটনা হয়ে থাকলে, তাহলে প্রচলিত আইনে যা আছে সেভাবেই হবে।
এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বিজেপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইমতিয়াজুর রহমান/এসএন
আরও পড়ুন
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, কূটনৈতিক মিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনকে আগে অবহিত না করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)।
একই সঙ্গে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের ন্যায়বিচার, কার্যকর আইনি সহায়তা ও কনস্যুলার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন যথাযথ উদ্যোগ নিয়েছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার দাবিও জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
আরও পড়ুন
বিবৃতিকে বলা হয়, গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার নামের দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রম উইং থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ১৮ অক্টোবরের একটি চিঠি অনুযায়ী, দুই নাগরিক পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আটক ছিলেন। ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের পাওয়া বন্দিদের তালিকায় তাদের সাজার তথ্য উল্লেখ ছিল না, যদিও অন্য বন্দিদের ক্ষেত্রে সাজার বিবরণ দেওয়া হয়েছিল। সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেনি বলেও ওই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।
সংস্থাটি প্রশ্ন তুলেছে, তালিকাটি পাওয়ার পর কনস্যুলেট এই দুই নাগরিকের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে কী উদ্যোগ নিয়েছিল? অন্য বন্দিদের সাজার তথ্য উল্লেখ থাকলেও তাদের ক্ষেত্রে কেন ছিল না? ৩০ সেপ্টেম্বর–১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ কনসুলেট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহসহ দুই বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষায় স্বপ্রণোদিত কোনো উদ্যোগ নিয়েছিল কিনা? না হলে কেন কোন পদক্ষেপ নেয়া হলো না? তাদের বিরুদ্ধে কী রায় দেওয়া হয়েছিল এবং কী সাজা নির্ধারিত হয়েছিল, তা জানতে সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না?—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
এইচআরএফবি মনে করে, দুই নাগরিকের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা চেয়ে কনস্যুলেটে যোগাযোগ না করার কথা বলা হয়েছে। তবে এ তথ্যের ভিত্তিতে কনস্যুলেটের নিজস্ব উদ্যোগ ও দায়িত্বের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট দুই নাগরিকের মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে কনস্যুলেট কখন কী তথ্য পেয়েছিল, তাদের অধিকার সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ নিয়েছিল এবং সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এইচআরএফবি মনে করে, সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশি মিশনকে অবহিত না করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা দিয়ে কনস্যুলেটের নিজস্ব ভূমিকা ও দায়িত্বের প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয় না। প্রতিবেদনে দুই নাগরিকের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা চেয়ে কনস্যুলেটে যোগাযোগ না করার কথা বলা হয়েছে। তবে এ তথ্যের ভিত্তিতে কনস্যুলেটের নিজস্ব উদ্যোগ ও দায়িত্বের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সংগঠনটি জানায়, কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় ‘নোট ভার্বাল’ পাঠিয়ে রায়ের কপি ও মামলার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি উত্থাপন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভূমিকা পর্যালোচনা এবং সেই পর্যালোচনার ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছে এইচআরএফবি। পাশাপাশি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই নাগরিকের পরিবারকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
শেখ জাহাঙ্গীর/এসএন
