মিসরে আটক ছয় সাংবাদিকের অধিকার রক্ষায় নিজের অবস্থানে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রধান খালেদ আল-বালশি। সাংবাদিকদের পক্ষে দাঁড়ানোয় সরকারপন্থী মহলের সমালোচনা ও চাপের মুখে পড়লেও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস করতে নারাজ তিনি।
আল-জাজিরার ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুসন্ধানী ও তথ্য যাচাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মাতসাদাশ’-এর ছয় সাংবাদিককে আটক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ আনার ঘটনায় মিসরের সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। আটক সহকর্মীদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়ায় সাংবাদিক ইউনিয়নকেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। খালেদ আল-বালশি এক বিবৃতিতে বলেন, একজন সহকর্মীর সঙ্গে যা ঘটে, তা পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
আজ একজনের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হলে আগামীকাল অন্য সাংবাদিকও একই পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন। তাঁর বক্তব্য, একজন সাংবাদিকের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ মানে সবার স্বাধীনতার ওপর আঘাত। প্রতিবেদন অনুসারে, গত ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক মোহাম্মদ আদেল, মোহাম্মদ আশরাফ আবু উমাইরা, ইসলাম বারাকাত, ওমর হেলাল, মোহাম্মদ মাহমুদ ও আবদুল্লাহ কাদরিকে আটক করা হয়।
পরে তাঁদের মিসরের সুপ্রিম স্টেট সিকিউরিটি প্রসিকিউশনে হাজির করা হয় এবং তদন্ত চলাকালে ১৫ দিনের প্রাক্-বিচার আটকাদেশ দেওয়া হয়। মিসরীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, আটক সাংবাদিকেরা মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সংবাদমাধ্যমের হয়ে কাজ করছিলেন। সরকার সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে মাতসাদাশের সহপ্রতিষ্ঠাতা আবদেলরহমান মনসুর সংবাদমাধ্যমটির সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে, মানবাধিকার সংগঠন ইজিপশিয়ান ইনিশিয়েটিভ ফর পার্সোনাল রাইটস (ইআইপিআর) আটক সাংবাদিকদের কয়েকজনকে মারধর, বৈদ্যুতিক শক দেওয়া এবং জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ তুলেছে।
সংগঠনটির আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকের পর প্রথম পাঁচ দিন তাঁদের পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, মিসরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্যাতনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং আটক ব্যক্তিরা তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এড়ানোর চেষ্টা করছেন। ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করা মাতসাদাশ তথ্য যাচাই ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে পরিচিতি পায়।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিসরে সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইট বন্ধ রয়েছে; তবে ফেসবুকে এর অনুসারীর সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি। আট সাংবাদিকের গ্রেপ্তার, হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ এবং তাঁদের পক্ষে দাঁড়ানো সাংবাদিক ইউনিয়নের ওপর চাপ—সব মিলিয়ে মিসরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা কেবল সংবাদ প্রকাশের অধিকার নয়; এটি জনস্বার্থে তথ্য অনুসন্ধান, ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সত্য প্রকাশের মৌলিক শর্ত।
সেই স্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নে খালেদ আল-বালশির অবস্থান মিসরের সাংবাদিক সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে—একজন সাংবাদিকের অধিকার রক্ষা মানে গোটা পেশার মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা করা।
The post আটক সাংবাদিকদের প্রশ্নে আপসহীন মিসরের প্রেস ইউনিয়ন প্রধান appeared first on ভোরের চেতনা.
