ভারতের মুম্বাইতে জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, মুম্বাইয়ের জুহুতে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি টাইগারকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে টাইগার বেঁচে যান। তবে গুলিতে তার গাড়ির চালক আহত হন। এ ঘটনায় ১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে আটককৃতের নাম জানানো হয়নি। খবর বিডিনিউজের।
খবরে বলা হয়, রোববার একটি ফুটবল মাঠ থেকে বেরিয়ে আসার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই একটি ভিডিও সামনে আসে, যেখানে অনিল পণ্ডিত নামে এক ব্যক্তি নিজেকে সন্ত্রাসী গ্রুপ লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য বলে দাবি করেন। ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, টাইগার শ্রফ তাদের ‘হিট লিস্টে’ রয়েছেন। কারণ তিনি তাদের নির্দেশ মানছিলেন না এবং আরেক বলিউড নায়ক সালমান খানের সঙ্গে কাজ করছিলেন। গুজরাটের কারাগারে বন্দি গ্যাং স্টার বিষ্ণোই এর আগেও একাধিকবার সালমান খানকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।
টাইগার শ্রফ বলিউডের এক সময়কার জনপ্রিয় অভিনেতা জ্যাকি শ্রফের ছেলে। অভিনয়ের পাশাপাশি টাইগার পেশাদার মার্শাল আর্ট শিল্পী হিসেবেও পরিচিত। চমৎকৃত নাচের জন্যও তিনি জনপ্রিয়। এনডিটিভি বলছে, টাইগার এবং সালমন খান একসঙ্গে কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় না করলেও, তাদের মধ্যে বেশ নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ২০১২ সালে বলিউড প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার ‘হিরাপান্তি’ সিনেমায় প্রথম নায়ক হিসেবে টাইগার বলিউডে তার যাত্রা শুরু করেন। শোনা যায়, সালমন খানই মূলত নাদিয়াদওয়ালাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন টাইগারকে সিনেমায় নেওয়ার। টাইগার শ্রফের বাবা জ্যাকি শ্রফ একাধিক চলচ্চিত্রে সালমন খানের সঙ্গে কাজ করেছেন।
হামলার ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অডিও বার্তা সামনে আসে, যেখানে এক ব্যক্তিকে হিন্দিতে বলতে শোনা যায়, ‘আমি অনিল পণ্ডিত। আমি লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাইয়ের মত। টাইগার শ্রফের সাথে আজ যা ঘটেছে, তার দায় আমি ও হারমান সান্ধু নিচ্ছি। টাইগার শ্রফকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সে আমাদের কথা বুঝতে চায়নি। পুরো চলচ্চিত্র শিল্পে যেই আমাদের সাথে তাল না মিলিয়ে কাজ করবে, তাকেই হত্যা করা হবে। এটিই প্রথম এবং শেষ সতর্কতা।’
