ভারতের সীমান্ত থেকে সড়কপথে বগুড়ার নন্দীগ্রামে ঢুকছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, ফেয়ারডিল, এমকেডিল, এস্কাফ, হেরোইন ও ট্যাপেন্টাডলসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য। মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে আসা ইয়াবা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। দেশের সীমান্তবর্তী জেলার অপরাধ নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে তৎপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মাদকের চোরাচালান উত্তরাঞ্চলের চারটি জেলা থেকে রাজশাহী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলায় প্রবেশ করছে।
নিয়মিত চেকপোস্টে দফায় দফায় মাদক উদ্ধার হলেও জড়িত মূলহোতা বা গডফাদার এখনো অধরা। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা জামিনে কারামুক্তির পর আবারও কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। কড়াকড়ি নজরদারির কারণে পাল্টেছে কৌশল। মালবাহী ট্রাক, মোটরসাইকেল আরোহী ও যাত্রীবাহী বাসের যাত্রী সেজে সড়কপথে আনা হচ্ছে মাদকের চালান।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) নন্দীগ্রাম পৌর শহরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। নেপথ্যের গডফাদার ও সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে বগুড়ার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ইয়াবার আখড়া নিয়ন্ত্রণ করতেন হাফডজন মামলার আসামি। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডিত সেই ব্যক্তি জামিনে এসে পুনরায় মাদক সংশ্লিষ্টতার পরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড কচুগাড়ী মহল্লার বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে জাকির হোসেন (৪২) এবং কলেজপাড়া মহল্লার হাফিজার রহমানের ছেলে হোসেন আলী (৩৬)। পৃথক অভিযানে ৪৫৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। একজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন মাদকসেবী জানায়, নন্দীগ্রাম শহরে মাদকের আগ্রাসন সবচেয়ে বেশি। নেপথ্যে রয়েছে ইয়াবা সাম্রাজ্যের পুরাতন সেনাপতি। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কলেজপাড়া ও কচুগাড়ী মহল্লার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে জাকির হোসেন। তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়ার পর মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল। জামিনে এলাকায় এসে আবারও ইয়াবার আখড়া নিয়ন্ত্রণ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কলেজপাড়ার হোসেন আলী কাঠের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গাছ কেটে ট্রাকভর্তি করে বিভিন্ন জেলায় বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে জাকির হোসেন। তার প্রলোভনের ফাঁদে আটকে যায় হোসেন আলী। শর্টকাট কোটিপতি হওয়ার নেশায় কাঠ ব্যবসার আড়ালে শুরু করে মাদক কারবার। গত জুলাই মাসে হোসেন আলী গ্রেপ্তার হলেও এবার তার সঙ্গে গডফাদার প্রকাশ্যে এসেছে। দুজনই ইয়াবাসহ হাতে গ্রেপ্তার হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়ার পরিদর্শক সামসুল আলম জানান, নন্দীগ্রাম পৌরসভার কলেজপাড়া ও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কচুগাড়ী মহল্লায় পৃথক অভিযান চালানো হয়। হাতেনাতে ধরা পড়ে দুই মাদক কারবারি। বসতবাড়ি তল্লাশি করে ৪৫০ পিস পাওয়া গেছে। জাকির হোসেনের কাছে ৫ পিস ইয়াবা ছিল। তাকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ আহমেদ।
এরআগে, ১৭ জুলাই মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কাঠ ব্যবসায়ী হোসেন আলী আটক হয়। তাকে গণপিটুনি দিয়ে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। পুলিশের দাবি ছিল, অভিযান চালিয়ে হোসেন আলীকে গ্রেপ্তার করে। দেহ তল্লাশি করে পাওয়া যায় ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।
নন্দীগ্রাম পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান পলিন বলেছিলেন, হোসেন আলী দীর্ঘদিন ধরে কলেজপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করে। নানা ধরনের মাদক বিক্রি করে যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল। এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় ছাত্রদল। ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হলে হোসেন আলীকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
