নাগেশ্বরীতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর মীম (১৯) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং পরবর্তী সময়ে শারীরিক অবস্থার অবনতির জন্য নাগেশ্বরী এ্যাপোলো হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসাসেবাকে দায়ী করছেন নিহতের স্বজনরা।
তাদের দাবি, প্রসূতির স্বাভাবিক ডেলিভারি না করে ভয়ভীতি দেখিয়ে সিজার করাতে বাধ্য করা হয়েছে। এছাড়া গর্ভাশয়ে ময়লা ও গর্ভফুলের অংশ রেখে প্রথম স্তরে সেলাই ফাঁকা রাখায় অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মুমূর্ষু অবস্থার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এ্যাপোলো ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
মৃত প্রসূতি মীম নাগেশ্বরী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড সান্জুয়ারভিটার বাসিন্দা আল মামুন বাবুর স্ত্রী।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার রংপুরের ডক্টর্স ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মীমের মৃত্যু হয়। এর আগে প্রসূতিকে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) নাগেশ্বরী এ্যাপোলো হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করানো হয়। পরে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে অস্ত্রোপচার করার পর অবনতি হলে তড়িঘড়ি করে ভোররাতে (১৪ অক্টোবর) রোগীকে রংপুরে রেফার্ট করে এ্যাপোলো কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার স্বামী আল মামুন বাবু।
ক্লিনিকের রেজিস্ট্রারে উল্লেখিত তথ্য অনুসারে প্রসূতির অস্ত্রোপচার করেন প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস রুমা, অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. শবনম খাতুন এবং তাদের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ক্লিনিকটির পরিচালক নুরুল ইসলাম (ডিএমএফ)।
প্রসূতির স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর মীমের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে বলে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ওই রাত আড়াইটার দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
মৃতের পরিবারের দাবি, রংপুরে পুনরায় অস্ত্রোপচারের সময় তাদের জানানো হয়, আগের অস্ত্রোপচারে প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা ছিল। এ সমস্যার কারণে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বেড়ে মীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
মীমের স্বামী আল মামুন বাবু বলেন, ভুল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসায় অবহেলার কারণে আমি আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি । এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। অ্যাপোলো ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী অ্যাপোলো হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক শাহ আলম ও নুরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক আলামিন জানান, বিষয়টি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজার দেখভালে রয়েছে। এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
গোলাম রসুল রাজা বলেন, শুক্রবার বিকালে বিষয়টি সমাধানের জন্য বসার কথা। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ সুজন সাহা বলেন, অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতি মায়ের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় সবাইকে সতর্ক হওয়া উচিৎ এবং প্রসূতিকে ভর্তি করানোর আগে ক্লিনিকের সক্ষমতা যাচাই-বাছাই করা জরুরি বলেও জানান তিনি।
এমএইচ
