কালবেলা · সাধারণ
গভীর রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও মেলেনি সার, মহাসড়ক অবরোধ
১৪/১০/২০২৬

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় রাত ৩টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও মেলেনি সার। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম তাই সার মিলবে না জানার পর নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের জয়বাংলা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪০ মিনিট অবরোধের পর স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও মান্দা থানা-পুলিশের হস্তক্ষেপে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কৃষকদের ভাষ্য, আগাম জাতের আলু, সরিষা, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন ফসল চাষের জন্য তারা জমি প্রস্তুত করছেন। এ সময় পর্যাপ্ত রাসায়নিক সার প্রয়োজন হলেও চাহিদা অনুযায়ী পাচ্ছেন না তারা। সময়মতো সার না পেলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কালিকাপুর ইউনিয়নে বর্তমানে ২ হাজার ৫০০ বস্তা ডিএপি, ২ হাজার ৫০০ বস্তা এমওপি (পটাশ) এবং ১ হাজার বস্তা টিএসপি সারের চাহিদা রয়েছে। তবে অক্টোবর মাসে এ ইউনিয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দ এসেছে মাত্র ২০০ বস্তা ডিএপি, ৯০ বস্তা টিএসপি ও ১৮২ বস্তা এমওপি সার। সব মিলিয়ে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৪৭২ বস্তা, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
জানা গেছে, এ ইউনিয়নে বিসিআইসির নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলার হিসেবে রয়েছেন মেসার্স আবুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবুল হোসেন। তবে বিএডিসির কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার নেই। ডিলারভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়ায় এ ইউনিয়নে সারের বরাদ্দ কম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ইউনিয়নের ছোট মুল্লুক গ্রামের কৃষক শ্রীমান আলি মোল্লা বলেন, ‘এ মৌসুমে আলু, সরিষা ও পেঁয়াজ চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করেছি। এখন কয়েক বস্তা সার প্রয়োজন। সারের জন্য রাত তিনটা থেকে লাইনে বসে আছি, এখনো সার পাইনি। সার না পেলে ফসল করব কীভাবে।’
একই গ্রামের কৃষক অখিল চন্দ্র বলেন, ‘এ মৌসুমে আমার অন্তত ২৫ বস্তা সার লাগবে। সময়মতো সার না পেলে ফসল চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
কালিকাপুর ইউনিয়নের বিসিআইসির সার ডিলার আবুল হোসেন বলেন, ‘অক্টোবর মাসে তিনি সামান্য সার বরাদ্দ পেয়েছেন। চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে কৃষকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সীমা কর্মকার বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় সার সরবরাহ কম হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। চলতি মাসেই আরও এক দফা সার বরাদ্দ পাওয়ার চেষ্টা চলছে। নতুন বরাদ্দের সার পৌঁছালে সংকট থাকবে না বলে আশা করছি।’
মূল প্রতিবেদনে যান ↗