লাদাখ নিয়ে আবার ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়াল চিন! মঙ্গলবার চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, ‘‘চিন কখনওই ভারতের একতরফা ও অবৈধ ভাবে অধিগৃহীত তথাকথিত ‘লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল’কে স্বীকৃতি দেয়নি।’’ গত সপ্তাহে ‘সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’ প্রকাশিত সরকারি মানচিত্রে লাদাখের ২৮টি স্থানের যে নামকরণ করা হয়েছে, তারও বিরোধিতা করেছেন তিনি।
‘সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’ প্রকাশিত ওই মানচিত্রের বিষয়ে ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতির বিরোধিতা করে মাও বলেন, ‘‘এই পদক্ষেপ অবৈধ ও অকার্যকর। চিন-ভারত সীমান্তের পশ্চিমাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলি সব সময় চিনের অংশ ছিল। সেই সত্যের পরিবর্তন করা যাবে না।’’ চিনা বিদেশ মন্ত্রকের এই বিবৃতি নতুন করে নয়াদিল্লি-বেজিং কূটনৈতিক টানাপড়েন তৈরি করেছে মঙ্গলবার। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চিন যতই অস্বীকার করুক না কেন, এই প্রতিষ্ঠিত সত্যের কোনও পরিবর্তন হবে না।’’
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গলওয়ানের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলএসি) চিনা হামলায় নিহত হয়েছিলেন ২০ জন ভারতীয় সেনা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতীয় জওয়ানদের পাল্টা হামলায় বেশ কয়েক জন চিনা সেনাও নিহত হয়েছিলেন। গলওয়ান-কাণ্ডের পর থেকেই কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনে দফায় দফায় বৈঠক শুরু হয়েছিল। যা আংশিক ফলপ্রসূ হয়। এলএসির কিছু এলাকায় ‘মুখোমুখি অবস্থান থেকে সেনা পিছোনো’ (ডিসএনগেজমেন্ট) এবং ‘সেনা সংখ্যা কমানো’ (ডিএসক্যালেশন)-র বিষয়টি কার্যকর করেছিল দু’পক্ষ। কিন্তু ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নতুন করে টানাপড়েন শুরু হয়। চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়, উত্তর-পশ্চিম চিনে দু’টি নতুন প্রদেশ তৈরি হয়েছে— হেয়ান এবং হেকাং প্রদেশ। শিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর স্বশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন এই দু’টি নতুন প্রদেশের কথা ঘোষণা করে। চিনের দাবি করা এই দু’টি প্রদেশের মধ্যে পড়ছে লাদাখের কিছু অংশও। চিনের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে বেজিংকে কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছিল দিল্লি। কিন্তু সাড়া মেলেনি বেজিং থেকে।
