আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে ৯৯ রানের এক বিশাল ও দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে জিম্বাবুয়ে। শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ার পর অভিজ্ঞ ক্রেগ আরভিন এবং ব্রেন্ডন টেইলরের অসাধারণ ব্যাটিং জুটির ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭ প্র রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। পরে দুর্দান্ত বোলিং আক্রমণে তারা বাংলাদেশ দলকে মাত্র ৩৪ ওভারের মধ্যেই গুটিয়ে দেয়।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া জিম্বাবুয়ে ইনিংসের শুরুতেই পেসার তাসকিন আহমেদের আগুনে বোলিংয়ের মুখে পড়ে। মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে তারা। ইনিংসের প্রথম ৭ ওভারের মধ্যেই ব্রিয়ান বেনেট, বেন কারান এবং তাফাদজওয়া সিগাকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে দেন তাসকিন।
তবে দলের এই বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করতে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার ব্রেন্ডন টেইলর এবং ক্রেগ আরভিন। চতুর্থ উইকেটে তারা গড়ে তোলেন ১৫০ রানের এক অবিস্মরণীয় ও প্রতিরোধমূলক জুটি। টেইলর ১০১ বলে ৮১ রান করে আউট হন এবং ইনিংসের সর্বোচ্চ ৯৩ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন আরভিন, যার বল মোকাবেলা করতে হয় ১০৬টি।
এরপর টাইগারদের হয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন সাইফ হাসান। তিনি প্রথমে টেইলরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন এবং দ্রুতই শিকান্দার রাজাকেও সাজঘরে পাঠান। তবে ইনিংসের শেষ দিকে নিউম্যান এনিয়ামহুরি ১৭ বলে অপরাজিত ২১ এবং ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ১৫ বলে অপরাজিত ২১ রানের দুটি দুর্দান্ত ক্যামিও ইনিংস খেলে দলের সংগ্রহকে লড়াইয়ের পুঁজির দিকে নিয়ে যান। বাংলাদেশের পক্ষে ১০ ওভারে ৪৪ রান খরচ করে ৩ উইকেট শিকার করে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন তাসকিন আহমেদ। এছাড়া সাইফ হাসান এবং শরিফুল ইসলাম দুটি করে উইকেট নিজের ঝুলিতে পুরেন।
জবাবে রান তাড়ায় নেমে আগ্রাসী শুরু করেন বাংলাদেশের তানজিদ হাসান তামিম। তিনি মাত্র ৩৮ বলে নয়টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে দ্রুতগতির ৪৬ রানের একটি ইনিংস খেলেন। তবে ব্লেসিং মুজারাবানি সৌম্য সরকারকে ৯ রানে আউট করার পর, দশম ওভারে তানজিদকেও ফিরিয়ে দেন নিউম্যান এনিয়ামহুরি। আর এরপরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ।
ব্রাড ইভান্স বাংলাদেশের মিডল ও লোয়ার অর্ডারে ধস নামান এবং ৪৫ রান খরচ করে নেন ৪টি উইকেট। পাশাপাশি দুই স্পিনার মাসাকাদজা ও রাজাও কৃপণ বোলিং করে ৩ উইকেট ভাগ করে নেন। উইকেটের পতন নিয়মিত বিরতিতে ঘটায় বাংলাদেশ দল আর ম্যাচে কোনো ধরনের থিতু হওয়ার সুযোগ পায়নি। নবম উইকেটে রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদের ৩২ রানের জুটিটিই ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি হলেও তা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। শেষ পর্যন্ত ৩৩ দশমিক ৪ ওভারে মাত্র ১৭২ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ, যার ফলে ৯৯ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জিম্বাবুয়ে।
