রাজশাহীর বাঘায় একটি ভেজাল গুড়ের কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কেমিক্যাল ও ভেজাল গুড় তৈরির উপকরণ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তা বিনষ্ট করা হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের পীরগাছা বাজারের দক্ষিণ পাশে, নওটিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান গেট সংলগ্ন সোহেল আলীর বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযুক্ত সোহেল আলী ওই গ্রামেরই বাসিন্দা মহসিন আলীর ছেলে।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়- চিনির বস্তা,কাপড়ের রং ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল - হাইড্রোজ (সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট) আটা, ফিটকিরি ও চুন, তৈরি করা ভেজাল গুড়
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় মাস ধরে এই বাড়িতে গোপনে এই কারখানা চলছিল। খাঁটি খেজুর বা আখের রসের পরিবর্তে কম দামে চিনি কিনে তাতে আটা মিশিয়ে ঘন করা হতো, সাদা করার জন্য ব্যবহার করা হতো হাইড্রোজ ও ফিটকিরি, আর আকর্ষণীয় লালচে রং আনতে মেশানো হতো কাপড়ের তৈরি নিষিদ্ধ রং ও চুন। এই গুড় বাঘা, লালপুর, ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে খাঁটি গুড় বলে বিক্রি করা হতো।
চিকিৎসকদের মতে হাইড্রোজ ও ফিটকিরি: কিডনি ও লিভার বিকল করে দেয়, খাদ্যনালীতে ঘা সৃষ্টি করে।
কাপড়ের রং (টেক্সটাইল ডাই): এটি সরাসরি ক্যান্সারের কারণ। দীর্ঘদিন খেলে লিভার ক্যান্সার ও পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।
চুন ও আটা: হজম শক্তি নষ্ট করে, ডায়রিয়া ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়ায়।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত কুমার বলেন, স্কুলের পাশে এই কারখানা হওয়ায় শিশু শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ছিল।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নওটিকা স্কুলের এক অভিভাবক বলেন, "স্কুল গেটের পাশে বিষ তৈরি হচ্ছে, আমাদের বাচ্চারা সারাদিন এই গন্ধের মধ্যে ক্লাস করে। আমরা দ্রুত এই কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানাই।"
আরেক স্থানীয় দোকানদার রজব আলী বলেন, "কম দামে পেয়ে আমরা এই গুড় কিনে বিক্রি করতাম, বুঝতে পারিনি এটা ভেজাল।"
অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান অনন্যা। তিনি বলেন, "ভেজাল খাদ্য তৈরি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪১ ধারায় অভিযুক্তকে ৭ হাজার টাকা অর্থদ- দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, মাত্র ৭ হাজার টাকা জরিমানায় কি এই বিষাক্ত ব্যবসা বন্ধ হবে? তারা কারখানা সিলগালা ও নিয়মিত মামলার দাবি জানিয়েছেন।