ক্যারিয়ার ডেস্ক

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রফেশনালসের (বিইউপি) আইন বিভাগের পাঁচ শিক্ষার্থী ‘সিভিল জজ’ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং মৌখিক তিন ধাপের পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তাঁরা।
বিইউপি থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন ২০১৫-১৬ সেশনের মো. তাওহীদুজ্জামান, ২০১৬-১৭ সেশনের মেহেদী হাসান সরকার, ২০১৮-১৯ সেশনের নুযহাত ইসলাম ও আরনাব সানজারাহ ইলমা এবং ২০১৯-২০ সেশনের তাহছিনা জামান। প্রত্যেকে বিইউপির আইন বিভাগ থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।
বিইউপি আইন বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. তাওহীদুজ্জামান ৭৮তম মেধাক্রম নিয়ে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি বরিশালের ঝালকাঠি জেলার নলছিটির সন্তান। এ সফলতায় মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে তিনি জানান, ‘আমার জীবন নানা চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। আমার এই অদ্ভুত জার্নিতে আমাকে সব থেকে বেশি সাহস জোগান আমার মা। আমার এই সফলতায় আম্মুর মুখে যেই গর্বের হাসি দেখছি এর থেকে সুন্দর কোনো অনুভূতি আর হয় না।’ শিক্ষার্থীদের জন্য আইন পড়াশোনায় ন্যায্যতা এবং যুক্তির ধার মজবুত করে প্রজ্ঞাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
মেহেদী হাসান সরকারের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নে। তিনি দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে ৬৪তম মেধাক্রম নিয়ে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁর এই সফলতা মরহুম বন্ধুকে উৎসর্গ করে তিনি বলেন, ‘নিজের ভালো লাগা কাজ করছে অবশ্যই, তবে আমার এই অর্জন আমার বন্ধু সামিউল হক অর্ণবকে (সিভিল জজ, জামালপুর) উৎসর্গ করতে চাই। কিছুদিন আগে তিনি গাড়ি দুর্ঘটনায় আমাদের ছেড়ে চলে যান।’ নতুনদের উদ্দেশে চেষ্টা অব্যাহত রাখা এবং নির্দিষ্ট প্যাটার্ন করে পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
চতুর্থ ব্যাচের দুই শিক্ষার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মেধাক্রমে ৪২তম হওয়া নুযহাত ইসলামের ইচ্ছে ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করার। কিন্তু বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হয়েও ভাগ্য তাঁকে আইন বিভাগে নিয়ে আসে। জীবনের প্রথম চাকরির সফলতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার আব্বুর খুব ইচ্ছা ছিল আমি বিচারক হব। অনেক উৎসাহ দিতেন। ৬ বছর আগে আব্বুকে হারিয়েছি। আম্মু সব সময় পাশে ছিলেন। অবশেষে আব্বু- আম্মুর স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।’ একই ব্যাচের অন্য শিক্ষার্থী আরনাব সানজারাহ ইলমা মেধাক্রমে ৩১তম হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ফলাফলের অনুভূতি জানিয়ে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ আমি যতটা খুশি তার চেয়ে বেশি স্বস্তিবোধ করছি, দুশ্চিন্তামুক্ত লাগছে। অনেক কৃতজ্ঞ আমার কাছের মানুষজনদের কাছে, শিক্ষকদের কাছে; আমাকে ভালো খারাপ সব সময় সহযোগিতা করার জন্য।’ পরীক্ষার্থীদের ভালো করতে নিজের জন্য কোন পদ্ধতিতে পড়ালেখা করলে কাজে দেবে তা নিজের জন্য কার্যকর পড়ার পদ্ধতি খুঁজে বের করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি।
৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী তাহছিনা জামান ৮৯তম মেধাক্রম নিয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায়। গত বছর এপ্রিলে তিনি মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। এ বছর সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘এই মুহূর্তটি আমার জন্য ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। প্রায় দুই বছরের পড়াশোনা, অসংখ্য নির্ঘুম রাত, নিজের ওপর বারবার বিশ্বাস রাখার চেষ্টা এবং সবচেয়ে বেশি পরিবারের দোয়া ও ত্যাগ সবকিছু মিলেই আজকের এই জায়গায় পৌঁছানো। মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি অশেষ শুকরিয়া, যিনি আমার পরিশ্রমকে কবুল করেছেন।’ তিনি মনে করেন তাঁর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ও লক্ষ্য হলো, মানুষের আস্থা ও ন্যায়বিচারের মর্যাদা রক্ষা করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। জুনিয়রদের উদ্দেশে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, সময়কে সম্মান করা এবং সততার সঙ্গে চেষ্টা করে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এই সফলতায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর আইন বিভাগের পক্ষে উত্তীর্ণ পাঁচ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সহকারী অধ্যাপক এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সাদেকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই অসাধারণ অর্জন তাঁদের নিষ্ঠা, অধ্যবসায়, একাডেমিক উৎকর্ষতা এবং আইন পেশার প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তাঁদের এই সাফল্য আইন বিভাগের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তাঁদের এই অর্জনের মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের শিক্ষকেরা, তাঁদের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিইউপি এবং এফএসএসএস-এর আইন বিভাগের জন্য অত্যন্ত সম্মান ও গৌরব বয়ে এনেছেন। আমাদের শিক্ষার্থীরা বিচার বিভাগের মহান ও মর্যাদাপূর্ণ পেশার মাধ্যমে জাতির সেবায় তাঁদের পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করছে—এটি আমাদের জন্য বিশেষ গর্বের বিষয়। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তাঁদের পেশাগত পথচলায় তাঁরা ন্যায়বিচার, সততা, নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতার মূল্যবোধ সমুন্নত রাখবেন।’

