সাইবার সুরক্ষা আইনসহ গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজন, টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক ও পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনা করে যুগোপযোগী ও টেকসই নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে নিজের নির্বাচনী এলাকা ভোলা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।
আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘সাইবার সিকিউরিটি থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইন আমরা সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছি। এই প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে স্টেকহোল্ডার, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের মালিক ও পত্রিকা সম্পাদকদের সঙ্গে বসে আলোচনা করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, এমন একটি টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন করতে চান, যাতে গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ সমানভাবে সুরক্ষা পান। আইন সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অচিরেই এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ পরিবর্তন দেখা যাবে।
ভোলা সদরের ২৯টি পূজামণ্ডপে ব্যক্তিগতভাবে ২৯ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। বুধবার রাতে তিনি জেলা শহরের বিকাশ মজুমদার বাড়ির পূজামণ্ডপ, অনুজকাহালী লেনের পূজামণ্ডপ, মদনমোহন মন্দির, ওয়েস্টার্ন পাড়ার শতদল বিকাশ ক্লাবসংলগ্ন পূজামণ্ডপ, মিহিরলাল সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ, লক্ষ্মী গোবিন্দ মন্দির, বাপ্তা মহাজনের পোল পূজামণ্ডপ, বাপ্তা শক্তি সংঘ পূজামণ্ডপ ও সার্কুলার রোড পূজামণ্ডপসহ মোট নয়টি মন্দির পরিদর্শন করেন।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) স্থানীয় নেতাকর্মী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
উৎসব ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সন্তোষজনক উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এবার আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। হিন্দু, মুসলমানসহ দেশের সব নাগরিক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাচ্ছেন, যা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।
শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি। পূজা কমিটির নেতাদের বরাত দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এবার পূজা চলাকালে ভোলায় কোথাও নিরাপত্তার শঙ্কা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
সম্প্রতি নেত্রকোনায় এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু সাংবাদিক বা নির্দিষ্ট কোনো পেশার মানুষ নয়, রাষ্ট্রীয় আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অপরাধমূলক ঘটনা ঘটলে প্রচলিত আইন অনুযায়ীই তার বিচার হবে।
ভোলা জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অসীম কুমার সাহা বাসসকে জানান, তথ্যমন্ত্রী ও জেলার স্থানীয় সংসদ সদস্যদের তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে এবার জেলার ১১৮টি পূজামণ্ডপে ভক্তরা নির্বিঘ্নে পূজার্চনা করতে পেরেছেন।
সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখায় জেলা পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান অসীম কুমার সাহা।
সুত্র-বাসস
এমএম/
