প্রথম ম্যাচের মতো স্কোর করতে পারেনি স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। তবে স্কোরটা খুব একটা ছোট ছিল না। কিন্তু সাদা বলের ক্রিকেটে উড়তে থাকা ভারতকে আটকানোর মতো যথেষ্ট ছিল না সেটি। প্রথমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও শেষের ঝড়ে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল ভারত।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিউজিল্যান্ডের হেগলি ওভালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্দিষ্ট ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান তুলেছিল নিউজিল্যান্ড। জবাব দিতে নেমে এক বল বাকি থাকতে ৬ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌছে যায় ভারত। টানা দুই জয়ে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।
শুরুর দিকে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও শেষদিকে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভারতের জয়ের নায়ক তিলক ভার্মা আর নিতিশ কুমার রেড্ডি। ১৯তম ওভারে নাথান স্মিথের বলে ৩ চার আর এক ছক্কায় ১৮ রান নিয়ে ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলেন তিলক। শেষ ওভারেও ১০ রানের লক্ষ্যকে চার হাঁকিয়ে সহজ করে দেন তিনি।
তবে রানা তাড়ায় নেমে এদিন ধীরগতির শুরু করেন ভারতীয় দুই ওপেনার সাঞ্জু স্যামসন আর অভিষেক শর্মা। তারপরও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি তারা। ১৭ বলে ১৪ রান করে স্যামসন ফিরলে ভাঙে ৪০ রানের ওপেনিং জুটি।
তিন নম্বরে নামা বৈভব সূর্যবংশী ৮ বলে ৪ রান করেই ফিরে যান। দ্রুতই আরও তিন ব্যাটারকে হারায় ভারত। ফিরে যান অভিশেক শর্মা (২১ বলে ২৭), অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার (১১ বলে ৭) ও অক্ষর প্যাটেল (৯ বলে ১১)।
এতে ৭০ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। তবে সেই চাপকে উঁড়িয়ে দেন আগের ম্যাচের দুই নায়ক তিলক ভার্মা আর নামান ধীর। ষষ্ঠ উইকেট ২৫ বলে ৪২ রানের জুটি গড়ে ভারতকে আবারও জয়ের আশা দেখান তারা। ১৭ বলে ৩১ রান করে নামান ফিরলে ভাঙে সেই জুটি।
তখনো ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩১ বলে ৬৯ রান। সেই লক্ষ্যও পূরণ করে ফেলেন তিলক আর নিতিশ কুমার রেড্ডি মিলে। ৩০ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের জুটি গড়েন তারা। যেখানে ১৭ বল থেকে ৪১ রান আসে তিলকের ব্যাট থেকে আর ১৩ বলে ২৬ রান আসে রেড্ডির ব্যাট থেকে।
এই দুজনের তাণ্ডবে সহজেই টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় ভারত। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত তিলক অপরাজিত থাকেন ২৬ বলে ৫১ রান করে আর রেড্ডি ১৩ বলে ২৬ রানে।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন মিচেল স্যান্টনার। আর একটি করে উইকেট যায় জ্যাকব ডাফি আর নাথান স্মিথের ঝুলিতে।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডেরও। পাওয়ার-প্লের মধ্যে ৪১ রানেই টপঅর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারায় তারা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ফেরেন টিম শেইফার্ট (৬ বলে ৭), তৃতীয় ওভারে ড্যারিয়েল মিচেল (৫ বলে ৬) আর ষষ্ঠ ওভারে ফিন অ্যালেন ১৪ বলে ১৬)।
এরপর চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে দলের বিপর্যয় সামাল দেন গ্লেন ফিলিপস আর বেভান জ্যাকবস। ৭৭ বলে ১১৬ রানের জুটি গড়েন এই দুজন। হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন ফিলিপস। ১৮তম ওভারে ৪৩ বলে ৭০ রান করা এই কিউই ব্যাটারকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন আর্শদ্বীপ সিং।
এরপর বেভানও বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি। তিনিও ফেরেন হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে। ৪৬ বলে ৫৮ রান আসে তার ব্যাট থেকে। নিউজিল্যান্ড থামে ১৮০ রানে।
ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ দুইটি উইকেট নেন আর্শদ্বীপ সিং। আর একটি করে উইকেট যায় ভুবনেশ্বর কুমার, প্রিন্স যাদব ও নিতিশ কুমার রেড্ডির ঝুলিতে।
