অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে নিয়েছিলেন বায়ার্ন গোলরক্ষক ন্যয়ার। সেই মারাত্মক ভুলে আউগসবুর্গের বিপক্ষে গোল হজম করে বসে বাভারিয়ান জয়ান্টরা। এতেই লেখা হলো নতুন ইতিহাস। বুন্দেসলিগার ইতিহাসের দ্রুততম গোল হজম করল বায়ার্ন।
ম্যাচের শুরুতেই গোলকিক থেকে লুইস দিয়াজের দেওয়া তুলনামূলক সহজ ব্যাক-পাস নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। বল কিছুটা সামনে বাড়িয়ে ফেলে সামনে ছুটে আসা রবিন ফেলহাউয়ারকে ডাজ দিতে গিয়ে কিছুটা দায়সারা চিপ করার চেষ্টা করেন নয়্যার। কিন্তু বল গিয়ে আঘাত করে ফেলহাউয়ারের পিঠে। সেখান থেকে রিবাউন্ড হয়ে বল চলে যায় ফেলহাউয়ারের নাগালের মধ্যে, এবং ফাঁকা পোস্টে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দেন এই আউগসবুর্গ তারকা।
বল যখন গোললাইন অতিক্রম করে, স্টেডিয়ামের ঘড়িতে তখন সময় গড়িয়েছে মাত্র আট সেকেন্ড! অন্যদিকে প্রভাবশালী জার্মান দৈনিক ‘বিল্ড’ তাদের নিজস্ব স্টপওয়াচে সময়টি ৮.৪ সেকেন্ড বলে জানিয়েছে। আর এর মধ্য দিয়েই বুন্দেসলিগার ইতিহাসে দ্রুততম গোলের রেকর্ড নিজের নামে লিখে নিলেন ফেলহাউয়ার। আগের যৌথ রেকর্ডটি ছিল করিম বেল্যারাবি (বায়ার লেভারকুজেন) ও কেভিন ভোলান্ডের (হফেনহাইম)- দুজনেরই সময় লেগেছিল ৯ সেকেন্ড।
নয়্যারের এই বড় ভুল নিয়ে বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি বলেন, নিশ্চয়ই এটি অত্যন্ত হতাশাজনক। আমরা এমন সূচনা মোটেও প্রত্যাশা করিনি। তবে ভুলের পর প্রতিক্রিয়া জানানোটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যা ঘটে গেছে, তা তো আর বদলানো সম্ভব নয়।
বায়ার্নের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ম্যাক্স এবার্ল নয়্যারের অসতর্কতার সমালোচনা করে বলেন, ‘সে চরম ভুল করেছে। বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে ফেলেছিল।’
ধারণা করা হচ্ছে, নয়্যার তার ক্যারিয়ারের শেষ মৌসুমে আছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি বারবারই অবসর নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে এসেছেন। তার জায়গায় দীর্ঘদিনের ‘এক নম্বর’ হিসেবে বায়ার্নের পরবর্তী উত্তরসূরি হতে যাচ্ছেন ইয়োনাস উর বিগ। নতুন দায়িত্বে মানিয়ে নিতে সহজ করার লক্ষ্যে গত মৌসুমের মতো এবারও তাকে নিয়মিত ম্যাচ খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে কোচ কোম্পানি যোগ করেন, নয়্যারকে তার ক্যারিয়ারের বাকি সময়টা আগের মতোই নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে যেতে হবে। তবে ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়ার মতো সুবর্ণ সুযোগ আমাদের সামনেও ছিল।
পরবর্তীতে ৫৫ মিনিটে ইসমায়েল সাইবারির গোলে বায়ার্ন সমতায় ফিরলেও ৬৪ মিনিটে নয়্যারের আরেকটি ভুলের সুযোগে পিছিয়ে পড়ে তারা। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ক্যালভিন ব্র্যাকেলম্যানের একটি দূরপাল্লার শট সঠিকভাবে গ্লাভসে বন্দি করতে ব্যর্থ হন নয়্যার। রিবাউন্ড থেকে রদ্রিগো রিবেরো খুব সহজেই গোল করে আউগসবুর্গকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। তবে ৮১ মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউনের গোলে অবশেষে ২-২ ব্যবধানের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে বায়ার্ন মিউনিখ।
বুন্দেসলিগার ইতিহাসের দ্রুততম করা পাঁচ খেলোয়াড়
১. রবিন ফেলহাউয়ার (এফসি আউগসবুর্গ): ৮ সেকেন্ড (১০ অক্টোবর ২০২৬, বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে) ২. কেভিন ভোলান্ড (টিএসজি হফেনহাইম): ৯ সেকেন্ড (২২ আগস্ট ২০১৫, বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে) ২. করিম বেল্যারাবি (বায়ার লেভারকুজেন): ৯ সেকেন্ড (২৩ আগস্ট ২০১৪, বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিরুদ্ধে) ৪. উলফ কির্স্টেন (বায়ার লেভারকুজেন): ১১ সেকেন্ড (৩০ মার্চ ২০০২, ১. এফসি কাইজারস্লাউটার্নের বিরুদ্ধে) ৪. জিওভানে এলবার (বায়ার্ন মিউনিখ): ১১ সেকেন্ড (৩১ জানুয়ারি ১৯৯৮, হামবুর্গার এসভির বিরুদ্ধে)