পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ, দমকল বাহিনী, বিপর্যয় মোকাবেলা দল ও চিকিৎসক দল পাঠানো হয়। আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত মণ্ডপটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
ভারতের উত্তর কলকাতায় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গা পূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৩ জন নারী ও এক শিশুসহ অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে গিরিশ পার্ক থানা এলাকার সারদা পার্কের ওই পূজামণ্ডপের বের হওয়ার গেটে এ ঘটনা ঘটে। কলকাতা পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পদদলনের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ, দমকল বাহিনী, বিপর্যয় মোকাবেলা দল ও চিকিৎসক দল পাঠানো হয়। আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত মণ্ডপটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হুড়োহুড়ির সময় অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাদের কয়েকজনকে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেয়া হয়।
এক প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগ করে বলেন, মণ্ডপের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ দুটিই ছিল সরু। ওই এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও ছিল না। তার মেয়ে ও নাতনি এ ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
কলকাতা পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘১৭ অক্টোবর আনুমানিক সন্ধ্যা ১৯:৪০ মিনিটে, বৃষ্টির মধ্যে প্যান্ডেল দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে গিরিশ পার্ক থানার অন্তর্গত সারদা পার্ক (চোরবাগান) পূজা প্যান্ডেলের বহির্গমন গেটে হুড়োহুড়ির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পদদলিত হয়ে আহত সবাইকে উদ্ধার করে এমসিএইচে (মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল) নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মুখ্য সচিব মনোজ আগারওয়াল ঘটনার পর পরই আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান।
এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কংগ্রেস প্রধান মল্লিকার্জুন খাড়গে ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিসহ বিশিষ্টজনরা। নরেন্দ্র মোদি নিহতদের জন্য ২ লাখ ও আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন।
