Published on
:
2 min read
পার্থ দত্ত
যখন সন্ধিপুজোর আরতির ঢাক বাজছে, গত বছর পুজোয় ঠিক সেই সময়ই কলকাতা ছেড়েছিলেন তিনি। দিল্লি উড়ে গিয়েছিলেন আর্চারি প্রিমিয়ার লিগ খেলতে। সেই যাওয়ার পরে সিঁথির তিরন্দাজ অঙ্কিতা ভকত, এ বার ফের পুজোয় নিজের শহরে ফিরছেন অষ্টমীতেই। হায়দরাবাদে আর্চারি প্রিমিয়ার লিগ খেলে।
এই মুহূর্তে মেয়েদের রিকার্ভে দেশের অন্যতম সফল তিরন্দাজ অঙ্কিতা। দু’বছর আগে প্যারিস অলিম্পিক্সে অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া হয়েছিল তাঁর। দেশের প্রথম মেয়ে তিরন্দাজ হিসেবে চতুর্থ হয়েছিলেন। ক’দিন আগেই আইচি–নাগোয়া এশিয়ান গেমসে সোনা পেয়েছেন। মেয়েদের রিকার্ভ টিমে।
নিজের শহরে ফিরছেন বটে, কিন্তু বাংলার প্রতি একরাশ অভিমান নিয়েই পুজো কাটাবেন ২৮ বছরের এই তারকা। কেন? শুক্রবার দুপুরে যখন হায়দরাবাদে ফোনে অঙ্কিতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলো, তখন তিনি রাজস্থানের রাজপুতানা রয়্যালসের হয়ে আর্চারি প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অঙ্কিতা বলছিলেন, ‘বাংলাতেই আমার জন্ম, বড় হওয়া, লেখাপড়া সবকিছু। কিন্তু অদ্ভুতভাবে এ রাজ্যে যেই সরকারে থাকুক না কেন, আমাকে বরাবরই উপেক্ষা করে।’ অভিমানী গলায় অঙ্কিতা বলে চলেন, ‘আমি এশিয়ান গেমসে দুটো পদক জিতেছি। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে একটা সোনা সহ চারটে পদক। বাংলার সরকার, রাজ্যের সব ক্রীড়াবিদের জন্যই এমন সাফল্যে আর্থিক পুরস্কার দেন। কিন্তু গত ১২ বছরে আমি এই রাজ্যের থেকে কিছুই পাইনি।’
২০১৪ প্র্যাক্টিসের স্বার্থেই অঙ্কিতা চলে যান জামশেদপুরে। টাটা আর্চারি অ্যাকাডেমিতে খেলার পাশাপাশি টাটার চাকরিও পেয়ে যান। থাকেন অ্যাকাডেমির হোস্টলেই। টাটার কর্মী হওয়ায় জাতীয় প্রতিযোগিতায় তাঁকে নামতে হয় ঝাড়খন্ডের হয়ে। আপনি ঝাড়খন্ডের প্রতিনিধি বলেই হয় তো বাংলার সরকার তাঁকে আর্থিক পুরস্কার দেয় না? এমন প্রশ্নে বেশ ক্ষুব্ধ অঙ্কিতা। তাঁর জবাব, ‘আমি তো শখ করে বাংলা ছাড়িনি। প্র্যাক্টিসের ভালো সুযোগ। চাকরি পেয়েছি বলেই ঝাড়খন্ডে আছি। আর এশিয়ান গেমস ও এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে আমি তো পদক জিতেছি দেশের হয়ে। তা হলে বাংলার সরকার আমাকে বঞ্চিত করছে কেন?’ যোগ করেন, ‘বাংলা আমাকে ভালো চাকরি দিক, আমি নিজের রাজ্যের হয়েই জাতীয় মিটে নামব।’
অঙ্কিতা জামশেদপুরে থাকলেও তাঁর বাবা–মা সিঁথির বাসিন্দা। বাবা শান্তনুর বিধান পার্কে দুধের দোকান। অঙ্কিতার কথায়, ‘আমি চাকরি করলেও বাবা তাঁর ব্যবসা ছাড়তে চান না। কষ্ট করেই কাজ করে চলেছেন।’ তিনি নিজেই জানালেন, অষ্টমীতে বাড়ি ফিরে অবশ্য বাবা–মায়ের সঙ্গে শাড়ি পরে বেরোবেন প্যান্ডল হপিংয়ে।
মা দুর্গার কাছে কী প্রার্থনা করবেন? অঙ্কিতার জবাব, ‘আমার লক্ষ্য, লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক্সের পদক। তাই পরের বছর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে থেকে অলিম্পিক কোটা অর্জন করতে চাই। মায়ের কাছে লক্ষ্যপূরণের আশীর্বাদই চাইব।’ সফল বঙ্গকন্যার গলায় আত্মপ্রত্যয়।
