Published on
:
2 min read
এই সময়: জার্মানির এরলাঙ্গেন শহরে ‘দুর্গাভিলে’-এর ষষ্ঠ বর্ষপূর্তির শারদোৎসব এ বার হয়ে উঠছে বর্ণাঢ্য মিলনমেলা। মাত্র তিনটি বাঙালি পরিবারের দেখা ছোট এক স্বপ্নের বীজ থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন আজ প্রবাসী বাঙালি ও স্থানীয় অধিবাসীদের বৃহত্তম উৎসবক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। প্রবেশমূল্যবিহীন এই উৎসবে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার ভেদাভেদ ভুলে সকলকে পূর্ণ আন্তরিকতায় আপন করে নেওয়া হয়।
এরলাঙ্গেনের ফ্রাউএনআউরাখে আয়োজিত এই উৎসবের মণ্ডপসজ্জার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় কয়েক মাস আগে থেকেই। প্রবাসের ব্যস্ত দৈনন্দিন জীবন ও কর্মব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে দুর্গাভিলের সদস্যরা সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে একসঙ্গে মণ্ডপ ও সাজসজ্জার কাজে হাতে লাগান। প্রতি বছরের মতো এ বারও মণ্ডপের ভাবনায় থাকছে অভিনব চমক। গত বছর মণ্ডপ সেজে উঠেছিল ঐতিহ্যবাহী ‘পটচিত্র’-এর রূপময় আবহে, সেখানে এ বছরের বিশেষ ভাবনা ‘আলোর ঝর্নাধারা’।
Ei Samay
তবে এখানের সবচেয়ে বড় চমক মাটির প্রতিমা। সুদূর জার্মানির মাটিতে প্রতিমা আমদানির সহজ পথ না বেছে এরলাঙ্গেনেই তৈরি হয় মাটির প্রতিমা। দেড়শো কিলোগ্রামেরও বেশি মাটি দিয়ে শত শত ঘণ্টার অক্লান্ত শ্রমে আয়োজকরা তিল তিল করে গড়ে তোলেন উমা ও তাঁর পরিবারকে। কাঠামো বাঁধা থেকে শুরু করে তুলির শেষ টান—সবটাই প্রবাসীরা নিজের হাতে করেন। এই প্রতিমার সঙ্গেই থাকবে পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাট থেকে আসা পুরোহিতের শাস্ত্রসম্মত বেদমন্ত্র উচ্চারণে পুজোর পরিবেশ।
সঙ্গে থাকছে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা, শিশুদের জন্য ‘গো-অ্যাজ-ইউ-লাইক’, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী শাঁখ বাজানো, প্রদীপ জ্বালানো, ক্যুইজ় এবং শাড়ি পরার প্রতিযোগিতা। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় থাকবে ‘মলহার’ দলের পরিবেশনা এবং কলকাতা থেকে আগত বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী মহুয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুষ্ঠান। পেটপুজোর ব্যবস্থাও থাকছে। এই পুজোয় প্রতিটি পদের রান্না করেন আয়োজক সদস্য নিজেরাই। আগত দর্শনার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ভোগের ব্যবস্থা থাকে। এ বার থাকছে খিচুড়ি, লাবড়া, মুচমুচে বেগুনি, বাঁধাকপির ঘণ্ট ও পাপড় ভাজা। এ ছাড়াও মেনুতে থাকবে সুগন্ধী বাসন্তী পোলাও, কাশ্মীরি আলুর দম, ফুলকো পরোটা, ছোলার ডাল এবং রকমারি পনিরের হরেক পদ। শেষপাতে জিভে জল আনা পায়েশ ও মিষ্টি।
বিজয়া দশমীর দিন লাল পেড়ে সাদা শাড়িতে মহিলাদের সিঁদুর খেলাও থাকছে। মায়ের বরণ, গালে লাল সিঁদুরের ছোঁয়া, ঢাকের তাল আর মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে এরলাঙ্গেনে উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে আবহমান বাংলার চিরন্তন রূপ।