ভারত থেকে আমদানি করা ১৮টি রেলকোচ পৌঁছেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে কোচগুলো কারখানায় আনা হয়। প্রাথমিকভাবে কোচগুলো খুলে যান্ত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর কমিশনিং ও ট্রায়াল রান সম্পন্ন করে ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে নতুন কোচ যুক্ত করার লক্ষ্যে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেডের মাধ্যমে এসব কোচ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০০টি ব্রডগেজ রেলকোচ সরবরাহ চুক্তির আওতায় প্রথম চালানে এসেছে চার ধরনের ১৮টি কোচ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চালানে রয়েছে ১১টি নন-এসি শোভন চেয়ার কোচ, তিনটি এসি চেয়ার কোচ, দুটি এসি স্লিপার কোচ ও দুটি এসি পাওয়ার কার। পাওয়ার কার দুটিতে গার্ডদের জন্য পৃথক কামরা এবং যাত্রীদের মালামাল বহনের ব্যবস্থা রয়েছে। কোচগুলো ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেলকোচ কারখানায় তৈরি করা হয়েছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘রেলওয়ে কারখানায় আনা এসব কোচ এখনো খোলা হয়নি। তবে খুব শিগগিরই খুলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে, আমাদের দেশের উপযোগী কি না। এ কাজে রেল কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ভারতের বিশেষজ্ঞরা কাজ করবেন।’
তিনি আরও জানান, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় যান্ত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কোচগুলোর ট্রায়াল দেওয়া হবে। এরপর সেগুলো ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে, নতুন কোচগুলো দিয়ে চিলাহাটি–কক্সবাজার পর্যটন রুটে একটি আন্তনগর ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের কারখানা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ রোবায়েতুর রহমান। তাঁর মতে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুত কোচগুলো রেলবহরে যুক্ত করা হলে বিদ্যমান কোচের সংকট কমাতে সহায়তা করবে।
কোচগুলো রেলবহরে যুক্ত করার আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কমিশনিং ও ট্রায়াল রান সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য লোকোমোটিভ, প্রয়োজনীয় ক্রু, টুলভ্যান ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষের।
