রাশিয়ার তেল শোধনাগারসহ জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করতে কিয়েভের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে ইউক্রেন ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে ওয়াশিংটন। হামলা অব্যাহত থাকলে ন্যাটোর সমন্বয়ে পরিচালিত অস্ত্র কেনার কর্মসূচি স্থগিত করা এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা ইউরোপের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন করে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানিয়েছেন। তাঁদের একজনের ভাষ্য, ইউক্রেনের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে ওয়াশিংটন। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার একটি কর্মসূচি ন্যাটোর সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এর আওতায় ন্যাটোর সদস্য ও অংশীদার দেশগুলো অর্থায়ন করে ইউক্রেনের জন্য মার্কিন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এ কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য মিত্রদেশগুলো ছয় শ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইতিমধ্যে এসব সরঞ্জাম সরবরাহের কার্যক্রমও চলছে। ফলে কর্মসূচিটি স্থগিত হলে ইউক্রেনের সামরিক সহায়তায় প্রভাব পড়তে পারে।
এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, কিয়েভ এ ধরনের সমঝোতায় সম্মত থাকলেও বিষয়টির বিস্তারিত জানতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে। তাঁর মতে, এ বিষয়ে কার্যকর সমঝোতা করতে হলে রাশিয়াকেও সম্মতি দিতে হবে।
জেলেনস্কির অভিযোগ, রুশ বাহিনী এখনো ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটিতে পেট্রলের উচ্চমূল্যের পেছনে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করছেন ট্রাম্প। এ কারণেই তিনি কিয়েভকে হামলা বন্ধ করতে চাপ দিচ্ছেন বলে ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।
গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে সরবরাহের জন্য রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানির সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক চাপের ফলে ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা এবং জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের সম্ভাব্য সমঝোতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর চূড়ান্ত অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
-20261012033918.jpg&w=1440&q=75)