বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নকশিকাঁথা ও আধুনিক বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির অনন্য সমন্বয়ে সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়েছে এমজি বাংলাদেশের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক এসইউভি এমজি এস৬। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ব্যতিক্রমী এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব যাতায়াতব্যবস্থাকে একই মঞ্চে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ৫০ ফুট দীর্ঘ একটি একটানা নকশিকাঁথা। বিশেষভাবে তৈরি একটি পোশাক থেকে শুরু হয়ে কোনো ধরনের বিচ্ছিন্নতা ছাড়াই নকশিকাঁথাটি যুক্ত ছিল এমজি এস৬-এর সঙ্গে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পকে আধুনিক বৈদ্যুতিক গাড়ির উপস্থাপনায় যুক্ত করার এই অভিনব পরিকল্পনা করেন ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর আসাদ সাত্তার ও তার প্রতিষ্ঠান কালচারকাঁথা। নকশিকাঁথার প্রতিটি সেলাইয়ের মধ্য দিয়ে দেশের শেকড়, ঐতিহ্য ও ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীকী গল্প তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে এমজি এস৬ উন্মোচন করেন আন্তর্জাতিক এফআইএ মোটরস্পোর্ট প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি নারী রেসার কাশফিয়া আরফা। তার উপস্থিতি আয়োজনটিতে নারীর অগ্রযাত্রা, নতুন প্রজন্মের সাহস এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
নকশিকাঁথার বিশেষ পোশাকটির নকশা তৈরিতে অবদান রাখেন সিজ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামাহা সুবাহ। পুরো পরিবেশনাটির কোরিওগ্রাফি করেন মাহমুদুল হাসান মুকুল। এ ছাড়া মঞ্চে উপস্থিতি ও অনন্য উপস্থাপনার মাধ্যমে আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলেন জেসিয়া ইসলাম ও শিরিন আক্তার শিলা।
এমজি বাংলাদেশের এই ব্যতিক্রমী উন্মোচন আয়োজন কেবল একটি নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ির আত্মপ্রকাশেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং ৫০ ফুটের একটানা নকশিকাঁথার মাধ্যমে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প, সৃজনশীল চিন্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যে একটি প্রতীকী সেতুবন্ধন তৈরি করা হয়েছে। দেশীয় সংস্কৃতিকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতের বৈদ্যুতিক যাতায়াতব্যবস্থার প্রতিও গুরুত্ব দিয়েছে আয়োজনটি।
