Published on
:
1 min read
রূপসা রায়
একদিকে ক্ষুধার্ত মানুষ, অন্য দিকে, নানা অজুহাতে তার থেকে দৃষ্টি ফেরানোর চেষ্টা, কখনও ধর্মের জিগির, কখনও বর্ণবিদ্বেষ, কখনও বা এমন কিছু, বাস্তবে যার কোনও অস্তিত্ব নেই, কিন্তু স্রেফ সে নিয়ে মানুষ বিতর্কে জড়াবে বলেই তা হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা— এ সব নিয়ে অনেক সময়েই অনেকের অনেক রাগ হয় সত্য, কিন্তু তাতে কী, কে না জানে, এই যুগ হলো মতাদর্শের বিপণনের যুগ। সবচেয়ে বড় কথা, এ যুগে যা নিয়ে যুদ্ধ, তা হলো মতাদর্শ।
ফলত মতাদর্শ বেচতে, তা জোরদার করতে, তা দিয়ে রাজনৈতিক ইঞ্জিনিয়ারিং -টা সফল করার জন্য দরকার প্রচার আর প্রচার। কখনও ঘৃণা উসকে, কখনও হিংসা উসকে, কখনও প্রজন্মের ক্ষততে আরও খানিক নুন ঢেলে দিয়ে। আর সেই প্রচারকে সহজে দু’মিনিটে নুডলসের মতো তৈরি করতে ও বেচতে কী লাগে? এআই। আছে হাতের কাছে।
এআই তৈরিতে জল বেশি খরচ হয় ঠিকই, তবে এআই আছে বলেই বহু প্রশ্নের উত্তর প্রশ্নের ‘প’ লেখার আগেই এসে যায়, ফলত এআই না থাকলে প্রচার রূপ পাবে কী করে? মুহূর্তের মধ্যে মনের মতো কনটেন্ট বানানোয় সেরা উপায় এআই। এ কথা যেমন প্রচারকরা জানে, পাবলিকও জানে। কিন্তু কোনটা এআই, কোনটা নিজের ‘আই’, ফারাক করতে পারে না। শুধু তাই নয়, ফারাক করতে পারলেই বা কী, কনটেন্টের জাদু এমন, ভুল, অসত্য জেনেও তা বিশ্বাস করতে মন চায়। যাকে বলে মনে তা-ই বসে থাকে বিশ্বাস রূপে, যা তুমি বা কেউ বিশ্বাস করতে চায়। তাই এই এআই কনটেন্ট ও প্রোপাগান্ডার মিশেলটাও যেহেতু ইতিমধ্যেই স্বীকৃত, তাই তার নামও হয়েছে বেড়ে— স্লোপাগান্ডা। ‘স্লোপ’ আর ‘প্রোপাগান্ডা’র মিশেলে। ২০২৫ সালে শব্দটা ছড়িয়ে পড়ে। স্লোপাগান্ডার সাক্ষাৎ বিরোধাভাস থেকেই!
