শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদেরও একসঙ্গে কাজে লাগিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
তিনি বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কাজ করেছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জনসম্পৃক্ততা থাকলে যেকোনো কাজ সহজে করা সম্ভব।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূজামণ্ডপে এসে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করাকে তিনি আনন্দের বিষয় হিসেবে দেখছেন। উপস্থিত সবার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শারদীয় শুভেচ্ছা ও আগাম বিজয় শুভেচ্ছা জানান তিনি।
এবারের পূজায় ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে একসময় আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীও পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এসব পরিস্থিতিতে জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেমিক শক্তির প্রতিনিধিত্বকারী বিএনপি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতাকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রশাসনের নিরাপত্তা কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে বিএনপির নেতাকর্মীরাও সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। তাঁর দাবি, দেশের ৩৩ হাজার ৮৬০টি মন্দির প্রাঙ্গণে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নিরাপত্তার বিষয়ে সচেষ্ট ছিলেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনগণের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিতেন। জনগণকে সম্পৃক্ত না করে বড় কোনো কাজ সহজে করা যায় না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রশাসন ও দলকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, অতীতে নানা দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেমিক শক্তি দাঁড়িয়েছে। তাঁদের সাহস জুগিয়েছে এবং সহযোগিতা করেছে। সরকারের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ যদি সম্মান, নিরাপত্তা ও সহযোগিতা পান, তাহলে তাঁরা কেন পাশে থাকবেন না? সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই পরিবেশ ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, রক্তের বিনিময়ে দেশের মানুষ ভোটের অধিকার অর্জন করেছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে, ব্যালট চুরি করে ক্ষমতায় আসেনি। এ কারণে সরকারের দায়িত্ব অনেক বেশি। প্রধানমন্ত্রীকে সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে, পাশাপাশি সংসদ সদস্য ও দলের নেতাকর্মীদেরও নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু মুখে প্রধানমন্ত্রীর হাত শক্তিশালী করার কথা বললে হবে না, নিজেদেরও কাজ করতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তিনি বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও এই সম্প্রীতি ও ঐক্যের ধারা অব্যাহত রাখতে চান। দেশের স্বার্থে এবং সব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
