চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্টিল কারখানার স্ক্র্যাপ কেনাবেচা ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদল কর্মী তারেক হোসেন বাপ্পি খুন হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাপ্পিকে গুলি করার অভিযোগে অভিযুক্ত আরিফ হোসেনও রয়েছেন; যিনি স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, সীতাকুণ্ডে বেশ কয়েকটি শিল্পকারখানা রয়েছে। বিশেষ করে স্টিল কারখানার স্ক্র্যাপ কেনাবেচায় আর্থিক স্বার্থ জড়িত। প্রাথমিক তদন্তে কারখানার স্ক্র্যাপ কেনাবেচার বিরোধের জেরে বাপ্পিকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
গত শুক্রবার রাতে উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের আলীনগর এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে গুলিতে নিহত হন বাপ্পি। তাকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন তাফসির আলম শাওন।
পুলিশ সুপার জানায়, ঘটনার রাতে বাপ্পি ও তার বন্ধু ইমন মোটরসাইকেলে করে ওই এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া আরিফ ও তার অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা করেন। মারধরের একপর্যায়ে বাপ্পি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। ইমন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার পর বাপ্পিকে গুলি করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে শাওনকেও ছুরিকাঘাত ও গুলি করা হয়।
ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয়দের বক্তব্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে বাপ্পির মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া আরিফুল ইসলাম জাবেদকে শনাক্ত করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের পর মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। পরে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, বাপ্পিকে গুলি করার অভিযোগে অভিযুক্ত আরিফসহ তিনজনকে জোরারগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরিফের বাড়ির পাশ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার ও একটি এলজি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে বলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- ফখরুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান, মো. ইফতেখার, আরিফুল ইসলাম জাবেদ ও রনি। তারা সবাই বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, নিহত বাপ্পি স্থানীয় যুবদলের কর্মী এবং গ্রেপ্তার আরিফ ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। অপরাধের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
