Published on
:
2 min read
বিশ্বদেব ভট্টাচার্য, আসানসোল
বিভিন্ন সময়ে সামাজিক কাজের জন্য ক্লাব বা কোনও সংস্থাকে সাংসদ কিংবা বিধায়ক তহবিল থেকে দেওয়া অ্যাম্বুল্যান্সগুলি এখন বহু জায়গাতেই অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। একসময়ে বিশেষত করোনাকালে সাধারণ মানুষকে হাসপাতালে যাতায়াত ও জরুরি পরিষেবায় ক্লাব চালিত এই অ্যাম্বুল্যান্সগুলি ব্যাপক ভূমিকা নিয়েছিল। কিন্তু বহু পুরোনো হওয়ায় এবং এয়ার কন্ডিশনার ও আধুনিক সুবিধা না থাকায়, পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের বিশাল খরচ সামলাতে না পেরে অর্থাভাবে এখন অধিকাংশ গাড়িই অচল। বহু টাকা খরচ করেও সেগুলিকে সচল রাখা সম্ভব না-হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ক্লাব ঘরের পাশে, রাস্তার ধারে বা গাছের নীচে ধুলো জমছে এগুলির উপর।
এমপি বা এমএলএ ল্যাডের ফান্ড থেকে পাওয়া এই পুরোনো অ্যাম্বুল্যান্সগুলি জেলা প্রশাসন বা পরিবহণ দপ্তরের কাছে ফেরত দিতে চেয়ে বার বার তদ্বির করলেও কোনও সুরাহা পাচ্ছেন না ক্লাব কর্তৃপক্ষ। হিন্দুস্তান কেবলসের বিশিষ্ট সামাজিক সংস্থা ‘উজ্জীবন’-এর তরফে অভিজিৎ মণ্ডল জানান, ২০২৩ সালে এবং গত বছরও তাঁরা জেলাশাসকের দপ্তরে চিঠি দিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সটি সরকারকে ফেরত দেওয়ার আবেদন জানান, কিন্তু কী ভাবে তা ফেরত দেবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না।
একই ভাবে আসানসোলের ইয়ুথ ক্লাবের পক্ষে রবিশঙ্কর কুণ্ডু বলেন, ‘করোনার সময়েও যথেষ্ট টাকা খরচ করে অ্যাম্বুল্যান্সটিকে মেরামত করে কাজে লাগিয়েছিলাম। কিন্তু বিপুল খরচের কারণে এখন আর তা সচল রাখা সম্ভব না হওয়ায় রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।’ তাঁরাও এটি প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে চান।
অন্য দিকে, সালানপুর ব্লকের ‘মা মুক্তাই চণ্ডী আনন্দমেলা সমিতি’র অন্যতম কর্তা তপন মাহাতা জানান, বহু বছর আগে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক মারফত পাওয়া তাঁদের অ্যাম্বুল্যান্সটিও দীর্ঘদিন অচল। তিনি বলেন, ‘পরিবহণ দপ্তরে কথা বলেও ফেরত দেওয়ার নিয়ম জানা যায়নি, আর পুরোনো গাড়ি ফেরত না-দিতে পারলে নতুন অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য সাংসদ বা বিধায়কদের কাছে আবেদনও করা যাচ্ছে না। লক্ষ্মীপুজোর পরে অফিস খুললেই ফের জেলাশাসক ও আরটিও-র কাছে লিখিত আবেদন জানাবেন বলে তিনি জানান।
এই বিষয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আরটিও সুদীপ মজুমদার বলেন, ‘রাজ্য সরকারের জেলা প্রশাসনের অধীনস্থ যত গাড়ি আছে, আমরা সাধারণত তার যাবতীয় বিষয় দেখভাল করি। এমপি বা এমএলএ ফান্ডের এই ধরনের অ্যাম্বুল্যান্স কী ভাবে ফেরত নেব তা আমার জানা নেই। তবে দ্রুত জেলা প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
