জাদুকরী কিংবা অলৌকিক। সম্মোহনী কিংবা ঘোর জাগানিয়া। ক্যারিয়ারজুড়েই লিওনেল মেসির পারফরম্যান্স এভাবেই একাকার করে দিয়েছে কল্পনা আর বাস্তবকে। এই ৩৯ বছর পেরিয়েও যেন সেই ইন্দ্রজাল শেষ হওয়ার নয়। আবারও তেমন পারফরম্যান্সের ভেলকিতে তিনি নিরুপায় করে তুললেন প্রতিপক্ষকে। চোখ কপালে তোলা বিস্ময় আর মুগ্ধতার রেশ ছড়িয়ে জেতালেন দলকে।
মেজর লিগ সকারের ম্যাচটিতে আর্জেন্টাইন জাদুকর উপহার দিলেন চোখধাঁধানো দুটি গোল। আটলান্টা ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলে হারাল ইন্টার মায়ামি।
এই দুই গোলে চলতি লিগে মেসির গোল হলো ২৫টি। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবলারকে পেছনে ফেললে তিনি ছয় গোলে। এছাড়া গোলে সহায়তা করেছেন ১৫টিতে। এখানে তিনি যৌথভাবে সর্বোচ্চ।
মেজর লিগ সকারে টানা তিন মৌসুমে অন্তত ১৫ অ্যাসিস্ট করা প্রথম ফুটবলার তিনি। ক্লাব ও দেশ মিলিয়ে সবশেষ টানা ১৩ ম্যাচে অবদান রাখলেন তিনি গোলে। তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় দীর্ঘতম ধারা এটি।
টানা তিন মৌসুমে মেজর লিগ সকারের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার জয়ের ইতিহাস গড়াও এখন তার জন্য বলা যায় স্রেফ সময়ের ব্যাপার।
আটলান্টার মাঠে ম্যাচের প্রথম ৪০ মিনিট ছিল নিস্তরঙ্গ। ৪১তম মিনিটে বক্সের বাইরে কোনাকুনি জায়গা থেকে মেসির দারুণ ফ্রি কিক কোনোরকমে ঠেকান আটলান্টার গোলকিপার।
৪৫তম মিনিটে এগিয়ে যায় মায়ামি। বক্সের একটু বাইরে থেকে হেড করে ভেতরে লুইস সুয়ারেসকে দেন মেসি। সঙ্গে থাকা প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে শরীরের ধাক্কায় ছিটকে গিয়ে গোলমুখে আলতো করে চিপ করেন সুয়ারেস। ছুটে এসে হেডে গোল করেন হার্মান বের্তেরামে।
মেসি জাদুর ঝাঁপি খুলে দেন দ্বিতীয়ার্ধে। ৪৮তম মিনিটে অনেকটা দূর থেকে তার ফ্রি কিক অনায়াসেই ধরে ফেলেন গোলকিপার।
৫২তম মিনিটে বড় বিপদ কেটে যায় মায়ামির। তাদের গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি আটলান্টার মিগেল আলমিরন।
৫৬তম মিনিটে মেসি আবির্ভুত হন অপ্রতিরোধ্য রূপে। মাঝমাঠের একটু ওপরে ডা দিকে বল পান তিনি রদ্রিগো দে পলের কাছ থেকে। বল ধরেই গুলির বেগে ছুটতে থাকেন সামনে। বক্সের একটু বাইরে প্রতিপক্ষের দুজনের মধ্য থেকে বল বাড়ান বের্তেরামের দিকে। তার কাছ থেকে আবার বল পেয়ে বিপজ্জনকভাবে বক্সে ঢুকে একজনকে কাটিয়ে স্লাইডিং আরেকজনের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে এবং গোলকিপারের দুই পায়ের ফাঁক গলে বল পাঠিয়ে দেন জালে।
টিভিতে বারবার গোলটির রিপ্লে দেখানোর সময় ধারাভাষ্যকার বলছিলেন, “এতটাই অবিশ্বাস্য… ছয়জন আটলান্টার ফুটবলার আশেপাশে, কারও কিছু করার উপায় ছিল না। ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়কে দেখছেন আপনারা, খেলাটিকে যিনি করে তুলেছেন খুবই সহজ।”
এর চার মিনিট পরই মোহাবিষ্ট করা আরেকটি গোল, যেখানে প্রতিপক্ষের করার ছিল সামান্যই। পাল্টা আক্রমণে নিজেদের অর্ধ থেকেই চমৎকারভাবে বল বাড়ান সুয়ারেস। বল ধরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যান মেসি। সামনে থাকা ডিফেন্ডারকে পায়ের জাদু আর শরীরের ঝাঁকুনিতে বিভ্রান্ত করে গোলকিপারের পাশ দিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন আরও।
৬৯তম মিনিটে মায়ামিতে পেনাল্টি দিলেও পরে ভিএআর মনিটর দেখে সিদ্ধান্ত বদলে দেন রেফারি। ৮৯তম মিনিটে পেনাল্টি থেকেই একটি গোল শোধ করে আটলান্টা।
আগেই প্লেঅফসে খেলা নিশ্চিত করে ফেলা মায়ামি এই জয়ের পর পয়েন্ট তালিকার দুইয়েই থাকছে ৩০ ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে।
