বরিশালের উজিরপুরে পূর্ববিরোধের জেরে কাওছার হাওলাদার (৩২) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রাশেদ আমিন হাওলাদার নামে আরও একজন আহত হন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত কাওছার হাওলাদার উপজেলার আলমদী গ্রামের মৃত মোনাফছের হাওলাদারের ছেলে। পেশায় সে একজন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক।
আহত রাশেদ জানিয়েছেন, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে সাতলা একতা বাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে নিহত কাওছার ও আশিকুলের সাথে প্রতিপক্ষ নান্না মোল্লা, সজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা ও তাদের চাচা কাঞ্চন মোল্লার মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পূর্বে উপজেলার আলমদী এলাকায় সজল হাওলাদারকে মারধর করে প্রতিপক্ষ নিহতের লোকজন। ওই ঘটনার জেরে তার ভাই সৌদি আরব প্রবাসী ইকবাল হোসেন নান্না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে প্রতিশোধমূলক ও উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেন। ইকবাল গত ২১ অক্টোবর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন।
রাশেদ বলেন, ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে ঢাকা ও বরিশাল থেকে মাইক্রোবাস এবং কয়েকটি মোটরসাইকেলে লোকজন সাতলা এলাকায় আসে বলে তিনি দাবি করেন।
পরে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় কাওছার হাওলাদার ও তার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা পাশের বিলের পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে তাঁরা সড়কের পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।
এ সময় ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কাওছার হাওলাদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে যান রাশেদ।
পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওছার হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়।
উজিরপুর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের উজিরপুর মডেল থানায় হস্তান্তর করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
ওসি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং আটকদের যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে। এ ঘটনায় নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলাউল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মোট নয়জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। জড়িত অন্যদের আটকের জন্যও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
