এক দশকের বেশি সময় পর নাইজেরিয়ায় ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আফ্রিকায় চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত দেশের সংখ্যা বেড়ে চারে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে নাইজেরিয়াই সবচেয়ে জনবহুল।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাইজেরিয়ার রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা ওদিয়ানসেন এহিয়াখামেন জানান, আক্রান্ত নারী উগান্ডার নাগরিক। তিনি গত ৫ অক্টোবর ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা হয়ে নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজায় পৌঁছান।
দুই দিন পর তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং ১১ অক্টোবর ম্যালেরিয়ার মতো উপসর্গ নিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় এবং তার ভ্রমণের তথ্য জানার পর চিকিৎসকরা ইবোলা পরীক্ষা করেন। মঙ্গলবার পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে।
বর্তমানে ওই নারীকে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষ তার সংস্পর্শে আসা ৪৪ জনকে শনাক্ত করেছে। তাদের অধিকাংশই স্বাস্থ্যকর্মী। একই সঙ্গে উগান্ডা থেকে নাইজেরিয়ায় আসার সময় তার সঙ্গে বিমানে থাকা যাত্রীদেরও শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
আফ্রিকা সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের প্রধান জ্যঁ কাসেয়া বলেছেন, আফ্রিকার তিনটি অঞ্চলে ইবোলা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
গত মে মাসে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ প্রাদুর্ভাবে ৪ হাজার ৬৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে কেনিয়ায়ও ইবোলা শনাক্ত হয়। দেশটিতে একই রোগীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯টি সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।
ইবোলার এ প্রজাতিতে আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকের মৃত্যু হতে পারে। এর অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
তবে নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ আলী পাতে বলেছেন, ২০১৪ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার অভিজ্ঞতা দেশটির রয়েছে। নতুন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
