দুর্গা পূজার ছুটিতে দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লী, ঝাউ বাগান, গঙ্গামতি ও লাল কাকঁড়ার চরসহ প্রতিটি স্পটে রয়েছে পর্যটকদের সরব উপস্থিতি। তারা সৈকতের জিরো পয়েন্টে হৈ-হুল্লোড় ও সমুদ্রে সাঁতার কেটে আনন্দ উন্মাদনায় মেতেছেন। আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর পর্যটক কার্নিভালে ৩ লাখ পর্যটক আগমনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, কুয়াকাটার ৩ শতাধিক হোটেল মোটেলের শতভাগ কক্ষ বুকিং রয়েছে। পণ্যের বিক্রি বাড়ায় স্বস্তি ফিরেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। আগতদের সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যটকদের কেউ কেউ সৈকতের বেঞ্চিতে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। কেউ কেউ প্রিয়জনের হাতে ধরে সৈকতের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত হেঁটে বেড়াচ্ছিলেন। অনেক পর্যটক ঘোড়া, কিংবা মোটরসাইকেলে চরে বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখছিলেন। ওটার বাইকেও সমুদ্রের বুকে অনেককে আনন্দে মেতে থাকতে দেখা গেছে।
মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক উত্তম-সবিতা দম্পত্তি বলেন, দুর্গাপূজার ছুটি উপলক্ষে আমরা সকালে কুয়াকাটা এসেছি। এখানের পরিবেশ বেশ ভালোই লাগছে। আগের তুলনায় হোটেল ভাড়া দ্বিগুন রাখা হচ্ছে। খবারের মানও তেমন ভালো নেই, দামও বেশি।
ঢাকার সাভার থেকে আসা পর্যটক হোসাইন সবুজ, রাসেল, ফাহিম ও ইয়াসিন জানান, তারা বন্ধুরা মিলে বুধবার সকালে কুয়াকাটা এসেছেন। সৈকতের কাছাকাছি হোটেলে কোনো কক্ষ পাননি। এ কারণে একটু দূরের হোটেলে উঠতে হয়েছে তাদের। হোটেলের ভাড়া অনেক বেশি মনে হয়েছে। নন এসি রুম তিন হাজার টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে।
তারা জানান, এতো কিছুর মধ্যেও তারা এখানে এসে আনন্দ করছেন। সমুদ্রে সাঁতার কেটে সময় উপভোগ করেছেন।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ নাজমুল হাসান বলেন, আজ কুয়াকাটা যে পর্যটক রয়েছে আগামীকাল কার্নিভাল শুরু উপলক্ষে আরো বেশি পর্যটকের আগমন ঘটবে। তাই পুরো কুয়াকাটা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নৌ-পুলিশ, থানা পুলিশ ও ট্যুরিষ্ট পুলিশসহ সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।
