দেশের বড় পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ডেটা সেন্টারে শনিবার যে বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। এ অবস্থাতেই ডেটা সেন্টারে বিভ্রাট নিয়ে দ্বিতীয় দিনের মত লেনদেন চলেছে ডিএসইতে।
ডেটা সেন্টারে বিভ্রাটের ফলে আগের দিন সমস্যায় পড়া ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা রোববার কিছুটা কমলেও বড় প্রতিষ্টানগুলোর সমস্যা কাটেনি।
এ দিন শীর্ষ দশ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটিই লেনদেনে সমস্যায় পড়ে সারা দিন। এ তিন প্রতিষ্ঠানই ‘অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস)’ সফটওয়্যার ব্যবহার করে ডিএসইর ট্রেডিং প্লাটফর্মে সরাসরি লেনদেন করে।
এতে দিন শেষে ডিএসইর লেনদেন ৪০০ কোটি টাকার নিচে নেমে হয়েছে ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন আরও কমে হয়েছিল ৩১৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা; যা গত সাড়ে ৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। চলতি বছরেও এ পর্যন্ত এটি ছিল সবচেয়ে কম লেনদেন।
রোববার লেনদেনের সঙ্গে পতন ঘটে প্রধান সূচকেরও। দিন শেষে আগের দিনের চেয়ে সূচক ১০ দশমিক ৫০ পয়েন্ট হারায়। আগের দিন সূচক ছিল ৫ হাজার ৪৩৩ পয়েন্ট।
আপদকালীন সময়ে (ব্যাকআপ) ব্যবহারের জন্য এর আগে ‘ডিজাস্টার রিকভারি (ডিআর)’ ডেটা সেন্টার গড়ে তা স্থাপন করা হয় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে, যা ডিএসই টাওয়ার থেকে ১৩ কিলোমিটারের মত দূরত্বে।
মূল ডেটা সেন্টার মতিঝিল থেকে সরিয়ে নিকুঞ্জে প্রধান কার্যালয়ে নেয় ডিএসই। বতর্মানে ডিএসইর দুটি ডেটা সেন্টার রয়েছে।
শনিবার কারওয়ান বাজার ডিআর ডেটা সেন্টার ব্যবহার করে প্রথম লেনদেনে যায় তারা। আগামী দুই মাস এই সেন্টার ব্যবহার করেই লেনদেন চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল সংস্থাটি কয়েক মাস ধরে।
কিন্তু প্রথম দিনেই প্রযুক্তির বিভ্রাটে পড়ে ডিএসইতে লেনদেনে বিঘ্ন ঘটে। সে সময় প্রথম দিন হওয়ায় ডিআরে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল তথ্য দিয়ে ডিএসইর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, রোববার লেনদেনে কোনো সমস্যা হবে না।
কিন্তু রোববার দ্বিতীয় দিনেও সমস্যা অব্যাহত ছিল।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোতে অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) সফটওয়্যার দিয়ে লেনদেন বাধ্যতামূলক করতে যাচেছ ডিএসই ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ জন্য কয়েকটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানকে ওএমএস সরবরাহ করতে বিএসইসি কয়েকটি সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান (ভেন্ডর) নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।
অন্য ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলো ডিএসইর সফটওয়্যারের সঙ্গে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ করতে ‘কানেক্টিভিটি’ সফটওয়্যার ব্যবহার করে।
পাঁচ-ছয়টি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ‘কানেক্টিভিটি’ সফটওয়্যার সরবরাহ করে থাকে।
ওএমএস সফটওয়্যার ব্যবহারকারীরা দ্বিতীয় দিনেও সমস্যা পড়েছেন। যে তিনটি বড় প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে তার একটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘থেকে থেকে সংযোগ কেটে গেছে। অর্ডার দিলে তা কখনো নেয়, কখনো নেয়নি। সারা দিনই এ সমস্যা ছিল। আমরা ডিএসইকে জানিয়েছি, লেনদেনে সমস্যা হচ্ছে। তারা সমাধান করবে বলেছে।’’
