গাজার সাধারণ নাগরিকদের গণহত্যার বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাদের বর্ণনা নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র নাজা-তে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কাতারভিত্তিক বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু তথ্যচিত্রটিকে ‘মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও পক্ষপাতদুষ্ট ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন। তার দাবি, এতে ইসরায়েল রাষ্ট্র ও দেশটির সামরিক বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে তথ্যচিত্রে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর তথ্যনিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন, ফৌজদারি মানহানি এবং ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাস্বার্থের ক্ষতি করার অভিযোগে বিচার শুরুর দাবিও জানান তিনি।
হিব্রু ভাষায় ‘কোল্যাটেরাল ড্যামেজ’ বা পার্শ্বক্ষয়ক্ষতির সংক্ষিপ্ত রূপ থেকে তথ্যচিত্রটির নাম রাখা হয়েছে নাজা। এতে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল সন্দেহভাজন যোদ্ধাদের শনাক্ত ও হত্যার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে, যার মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচালিত ব্যবস্থাও রয়েছে।
তথ্যচিত্রটির বক্তব্য অনুযায়ী, এসব প্রযুক্তির সাহায্যে এমন হামলা চালানো হয়েছে, যাতে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে এমনটা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আগে থেকেই জানত।
তথ্যচিত্রে উঠে আসা অভিযোগের জবাবে নেতানিয়াহু অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তবে তার পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
