দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২১ জনে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯২০ জন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গুবিষয়ক ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী। তাঁদের মধ্যে একজনের বয়স পাঁচ বছরের কম। বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মারা যাওয়া ৩২১ জনের মধ্যে নারী ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৯ দশমিক ১ শতাংশ।
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে কেউ মারা যাননি। মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। এরপর মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান।
সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। ওই মাসে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারান ১৪৮ জন। চলতি অক্টোবরের প্রথম ১৪ দিনে মৃত্যু হয়েছে ৭৬ জনের। এর মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হয় ৬ অক্টোবর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হাসপাতালে ৮৮ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হাসপাতালে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় মারা গেছেন ১৭ জন। এ ছাড়া খুলনায় ৬৫ জন, চট্টগ্রামে ৩০ জন, বরিশালে ২৬ জন, ময়মনসিংহে ২৫ জন, রাজশাহীতে ২৩ জন, রংপুরে ছয়জন এবং সিলেটে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
রোগী ভর্তির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরের প্রথম ১৪ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৫ হাজার ৬৯৬ জন। এর আগের মাস সেপ্টেম্বরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন।
এ বছরের জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে ২ হাজার ৯০৭, জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ এবং আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৫ হাজার ৩১৬ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৯ হাজার ২০১ জন।
The post ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আর ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯২০ appeared first on ভোরের চেতনা.
