টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অন্যায় ভাবে শারিরীক নির্যাতন ও জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে দুই সাংবাদিকের কারাগারে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা শ্রমিকদলের এক নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন খোদ ভূক্তভোগী মাহিন। অভিযুক্ত শ্রমিক নেতা খন্দকার জাহাঙ্গীর হোসেন হৃদয় ভূঞাপুর পৌর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক।অন্যদিকে, ভুক্তভোগী মাহিন ধনবাড়ী উপজেলার বালাসূতি গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে ঘটনার কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে। জানা যায়, বিয়ের অনুষ্ঠানে ভিডিও ধারণ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
মামলার বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতার আগে শ্রমিকদল নেতা হৃদয় তাঁর লোকজন নিয়ে পুর্ব ভূঞাপুর ড্রেনপাড় এলাকার একটি বাসায় যান। পরে তাঁর ডাকেই সেখানে উপস্থিত হন সাংবাদিক হাদি চকদার ও তপু তালুকদার। কাজীর মাধ্যমে বিয়ের কার্যক্রম চলাকালে ভুক্তভোগী আনন্দের সঙ্গে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় সাংবাদিক হাদি চকদার তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং হাত থেকে মুঠোফোন কেড়ে নেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাদি চকদার তাঁদের বাইরে নিয়ে যেতে চান। পরে শ্রমিকদল নেতা হৃদয়ও তাঁদের বাইরে যেতে বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ

মামলার বাদীর মাহিনের দাবি, বাইরে নেওয়ার পর দুই সাংবাদিক তাঁদের ওপর নির্যাতন চালান। পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা তাঁদের সঙ্গে এমন আচরণ না করার অনুরোধ জানালেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর ফোনে থাকা ব্যক্তিগত ও গোপনীয় ছবি নিজের ফোনে নিয়ে নেওয়া এবং পরে সেগুলো ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
এছাড়াও, দুই সাংবাদিক ভুক্তভোগীদের ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরপাড় এলাকায় অবস্থিত মুশাররফ স্যার রেখা কমপ্লেক্সে শ্রমিকদল নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন হৃদয়ের কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের কয়েক দফায় নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন মাহিন।

তাঁর দাবি, নির্যাতনের একপর্যায়ে সাংবাদিক তপু তালুকদারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে শ্রমিকদল নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন হৃদয়ের কার্যালয়ে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলে যান।
তাঁর দাবি, ঘটনার শুরু থেকে ওই শ্রমিকদল নেতা ভুক্তভোগী মাহিন ও তার বন্ধুদের আশ্বস্ত করে বাইরে যেতে বলেন এবং পরে তাঁর কার্যালয়ে আটকে রাখার সময়ও সাংবাদিকদের সঙ্গে থাকতে বলেন।
পরদিন সকালে সেখান থেকে একজন করে এটিএম বুথে নিয়ে টাকা তুলতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, এভাবে পর্যায়ক্রমে দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অন্য এক ব্যক্তির কাছ থেকে আরও ৩১ হাজার টাকা এবং তিন বন্ধুর তিনটি আইফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, যে অ্যাকাউন্ট নম্বরে টাকা পাঠানো হয়েছিল, সেটি সরবরাহের সঙ্গে শ্রমিকদল নেতা হৃদয়ের সহযোগী সিয়ামের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে। পরে সহযোগী সিয়ামের পাহারায় তাঁদের ভূঞাপুর থেকে ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া এলাকায় নিয়ে ছেড়ে আসা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে প্রতিবেদকের হাতে ঘটনার কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ আসে। সিসিটিভি ফুটেজে মোটরসাইকেল, চালকের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে উল্লেখ করা ফুটেজে একটি সুজুকি মোটরসাইকেল ও অভিযুক্ত শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনের সহযোগী সিয়ামকে দেখা গেছে বলে জানা গেছে। এরপর ঘটনাস্থলে সাংবাদিক তপু তালুকদারের উপস্থিতির বিষয়টিও সামনে আসে।
এ বিষয়ে জানতে পৌর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার জাহাঙ্গীর হোসেন হৃদয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে মোটরসাইকেলে আছি পরে ফোন করুন বলে ফোন কেটে দেয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পুরো ঘটনা বাইরে কাউকে জানালে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন সাংবাদিক হাদি চকদার। এ ছাড়া ভূঞাপুর থানা পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রভাব দেখিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ভূক্তভোগীর পরিবারসহ ভূঞাপুর থানায় এসে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ঐ দুই সাংবাদিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় এজাহারে হাদি চকদার ১ নং বিবাদী থাকলেও সম্পুর্ন ঘটনা ২ নং বিবাদী তপু তালুকদারের উপর দায় চাপানো হয়। অপরদিকে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়, শ্রমিক নেতা খন্দকার জাহাঙ্গীর হোসেন হৃদয়।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম রেজাউল করিম জানান, বাদী এজাহারে যা লিখেছে তার ভিত্তিতেই মামলা রুজু করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর হোসেনের নাম যদি তদন্তে আসে তাহলে অভিযোগে যুক্ত করা হবে।
-20261023090551.jpg&w=1440&q=75)