বিশ্বরেকর্ড অভিষেক শর্মার।ছবি: BCCI
Published on
:
2 min read
নিউ জ়িল্যান্ডের (New Zealand) বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শুরু থেকেই ঝড় তোলে টিম ইন্ডিয়া (India)। বৃহস্পতিবার ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে ২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই নিয়ে সপ্তম বার ইনিংসের প্রথম বলেই ছক্কা মারেন ভারতের এই বাঁহাতি ওপেনার। এ দিন আফগানিস্তানের শফিকুল্লা শিনওয়ারিকে পিছনে ফেলে এই নজির গড়লেন তিনি। অন্য দিকে, মাত্র ২৩ বলে অর্ধশতরান করে নজর কাড়লেন সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)। দুই ওপেনারের দাপটে পাওয়ারপ্লে-তেই ৯৪ রান তুলে নেয় ভারত।
এ দিন আফগানিস্তানের শফিকুল্লা শিনওয়ারিকে পিছনে ফেলে এই নজির গড়লেন তিনি। অন্য দিকে, মাত্র ২৩ বলে অর্ধশতরান করে নজর কাড়লেন সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)। দুই ওপেনারের দাপটে পাওয়ারপ্লে-তেই ৯৪ রান তুলে নেয় ভারত।
প্রথম বলেই ছক্কা, নজির অভিষেকের
ম্যাট হেনরির করা প্রথম ওভারের শেষ বলে ছক্কা মেরে নতুন নজির গড়েন অভিষেক। ইনিংসের ওটাই ছিল অভিষেকের প্রথম বল। অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেন্থের বল পেয়ে কভার অঞ্চলের উপর দিয়ে তুলে মারেন তিনি। বলটি সীমানার বাইরে গিয়ে পড়ে ৭৪ মিটার দূরে। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইনিংসের প্রথম বলেই ছক্কা মারার তালিকায় এত দিন ছ’বার এই কৃতিত্ব ছিল শফিকুল্লার। তাঁকে টপকে সাত বার এই নজির গড়লেন অভিষেক। সূর্যকুমার যাদব পাঁচ বার এই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। পল স্টার্লিং, কলিন মুনরো এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মহম্মদ নাভিদ চার বার করে প্রথম বলেই ছক্কা মেরেছেন।
শুধু তাই নয়, টেস্ট খেলার মর্যাদা পাওয়া দেশগুলির ক্রিকেটারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকের প্রথম ওভারে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার নজিরও অভিষেকের দখলে। এই নিয়ে প্রথম ওভারে তাঁর ছক্কার সংখ্যা ১৬। আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিং এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের এভিন লুইস ১৩টি করে ছক্কা মেরেছেন। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মা এবং নিউ জ়িল্যান্ডের মার্টিন গাপ্তিলের ঝুলিতে রয়েছে ১২টি করে ছক্কা।
২৩ বলে অর্ধশতরান সঞ্জুর
অভিষেকের মতোই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করেন সঞ্জু। মাত্র ২৩ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। হ্যাগলি ওভালে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি চতুর্থ দ্রুততম অর্ধশতরান। এই মাঠে দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ড নিউ জ়িল্যান্ডের গ্লেন ফিলিপসের। ২০২২ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মাত্র ১৯ বলে পঞ্চাশ করেছিলেন তিনি। ২০১০ সালে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২১ বলে অর্ধশতরান করেন অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন হোয়াইট। ২০২৫ সালে এই মাঠেই ২২ বলে পঞ্চাশ করেছিলেন ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক।
অভিষেক ও সঞ্জুর ৯৩ রানের ওপেনিং জুটি আরও একটি নজির গড়েছে। ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই নিয়ে পঞ্চম বার অন্তত ৫০ রানের ওপেনিং জুটি গড়ল ভারত। এক বছরে এত বার ৫০ বা তার বেশি রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ার ভারতীয় রেকর্ডেও ভাগ বসালেন তাঁরা।
২০২১ সালে কে এল রাহুল ও রোহিত শর্মা পাঁচ বার এমন জুটি গড়েছিলেন। ২০২৫ সালে অভিষেক ও শুবমান গিলও পাঁচ বার এই কৃতিত্ব দেখান। ২০১৮ সালে শিখর ধাওয়ান ও রোহিতের এমন জুটি ছিল চারটি।
অভিষেক ফিরলেও পাওয়ারপ্লে-তে ঝড় ভারতের
পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে ভাঙে অভিষেক-সঞ্জুর জুটি। মাইকেল ব্রেসওয়েলের ঘণ্টায় ৯২ কিলোমিটার গতির বলটি কভার অঞ্চলের উপর দিয়ে মারতে গিয়ে ভুল করেন অভিষেক। বল ব্যাটে লেগে অদ্ভুত ভাবে উঠে যায় শর্ট থার্ড ম্যান এলাকায়। সেখানে ক্যাচ ধরেন অ্যাডাম মিলনে। ১২ বলে ২৯ রান করে ফেরেন অভিষেক। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি ছক্কা ও একটি চার। অভিষেক ফিরলেও প্রথম ছয় ওভারে নিউ জ়িল্যান্ডের বোলারদের উপর চাপ বজায় রাখে ভারত।
পাওয়ারপ্লেতে ৯৪ রান তোলে তারা। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লে স্কোরের তালিকায় এটি তৃতীয়। ২০২৬ সালে দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বিনা উইকেটে ১০০ রান এবং ২০২৫ সালে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক উইকেটে ৯৫ রান— এই দু’টি স্কোরই রয়েছে এর উপরে।