রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে বন্যহাতির আক্রমণে নিহত মংখ্যাইচিং মারমার পরিবারকে তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে বন বিভাগ। ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর রবিবার (১৮ অক্টোবর) কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের কিন্নরী হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিহতের স্ত্রী সানুই মারমার হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হয়।
চেক হাতে পেলেও স্বামী হারানোর শোক কাটেনি সানুই মারমার। সরকারি সহায়তা দুঃসময়ে কিছুটা স্বস্তি দিলেও প্রিয়জনকে হারানোর শূন্যতা যে পূরণ হওয়ার নয়, তা উঠে আসে তার কথায়। চেক গ্রহণের সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে সানুই মারমা বলেন, আমার স্বামীকে হারিয়ে আমরা খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।
এই টাকা আমাদের শোক ভুলিয়ে দিতে পারবে না, তবে দুঃসময়ে কিছুটা সহায়তা হবে। নিহত মংখ্যাইচিং মারমা (৫০) স্থানীয়ভাবে ‘মাস্টার’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি কাপ্তাই উপজেলার ৩ নম্বর চিৎমরম ইউনিয়নের চিৎমরম বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
গত ১২ এপ্রিল রাতে উপজেলার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম চাকুয়া পাড়া এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর ক্ষতিপূরণের অর্থ পেল তার পরিবার।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কাপ্তাই বন বিভাগের সভাপতি মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, বন্যহাতির আক্রমণে মানুষের প্রাণহানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
নিহতের পরিবারের এ ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়। তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্ণফুলী রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বী সরকার বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আবেদন করলে সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে হাতির ওপর যেন কেউ আক্রমণ না করেন সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যহাতির আক্রমণে বসতবাড়ির ক্ষতি হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা, কেউ আহত হলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা এবং কেউ নিহত হলে তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে।
কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, কোথাও বন্যহাতি দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বন বিভাগকে জানাতে হবে। এতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. এনামুল হক হাজারীসহ বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিআলো/আমিনা