দাড়িওয়ালা চেহারায় অভ্যস্ত? তাহলে আজই হতে পারে নিজেকে নতুন রূপে আবিষ্কারের দিন। প্রতি বছর ১৮ অক্টোবর পালিত হয় জাতীয় দাড়িমুক্ত দিবস। এদিন দাড়িওয়ালা পুরুষদের দাড়ি কামিয়ে একেবারে পরিষ্কার মুখে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়।
নতুন চেহারায় বন্ধু-পরিবারকে চমকে দেওয়া কিংবা দীর্ঘদিন পর দাড়িমুক্ত মুখের অনুভূতি নেওয়ার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করতে পারেন।
বছরের পর বছর ধরে দাড়ি রাখুন কিংবা কয়েক সপ্তাহ ধরে- জাতীয় দাড়িমুক্ত দিবস দাড়ি কামিয়ে নতুন রূপে নিজেকে দেখার একটি উপলক্ষ। দাড়ি কামিয়ে চেহারায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি দিনটি হতে পারে নিজের পরিচিত লুক থেকে বেরিয়ে আসার একটি মজার অভিজ্ঞতা।
কেন ১৮ অক্টোবর পালিত হয় দাড়িমুক্ত দিবস?
জাতীয় দাড়িমুক্ত দিবসের সময় নির্ধারণের পেছনেও রয়েছে একটি কারণ। নভেম্বর মাস শুরুর দুই সপ্তাহ আগে দিবসটি পালিত হয়। এটি ‘মুভেম্বার’ ও ‘নো শেভ নভেম্বর’-এর মতো দাতব্য কার্যক্রমের সূচনা বিন্দু হিসেবে কাজ করে।
মুভেম্বার হলো প্রতি বছর নভেম্বর মাসজুড়ে বিশ্বব্যাপী পালিত একটি সচেতনতামূলক আন্দোলন বা ক্যাম্পেইন। এর মূল উদ্দেশ্য পুরুষদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং তহবিল সংগ্রহ করা।
অন্যদিকে, নো শেভ নভেম্বর হলো প্রতি বছর নভেম্বর মাসে পালিত একটি আন্তর্জাতিক সচেতনতামূলক আন্দোলন। এতে অংশগ্রহণকারীরা ৩০ দিন ধরে দাড়ি বা চুল শেভ করা, ট্রিম করা কিংবা কাটা থেকে বিরত থাকেন।
এসব কর্মসূচিতে পুরুষদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রোস্টেট ক্যানসার, অণ্ডকোষের ক্যানসার ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে দাড়ি-গোঁফ বড় করা হয়।
যেভাবে ভালোভাবে দাড়ি কামাবেন
জাতীয় দাড়িমুক্ত দিবসে দাড়ি কামিয়ে নতুনভাবে শুরু করতে পারেন। বৈদ্যুতিক ট্রিমারের পরিবর্তে প্রচলিত পদ্ধতিতে দাড়ি কামিয়ে মসৃণ ত্বকের অভিজ্ঞতাও নিতে পারেন। তবে ভালো ফল পেতে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করা জরুরি।
১. প্রস্তুতি নিন: প্রথমে গরম পানিতে গোসল করুন অথবা কয়েক মিনিট মুখে গরম পানিতে ভেজানো তোয়ালে চেপে রাখুন। এতে দাড়ির লোম নরম হয় এবং ত্বকের রোমকূপ খুলে যায়। দাড়ি কামানোর আগে বিশেষ তেল ব্যবহার করলে ক্ষুর সহজে চলতে পারে।
২. ফেনা তৈরি করুন: বাজারে পাওয়া স্প্রে ফেনার পরিবর্তে ব্যাজারের লোমের তৈরি ব্রাশ এবং ভালো মানের শেভিং সাবান বা ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঘন ফেনা তৈরি হয়, যা লোমকে কিছুটা উঁচু করে এবং ত্বককে সুরক্ষা দেয়।
৩. সঠিক কৌশল অনুসরণ করুন: সাধারণ ক্ষুর কিংবা আধুনিক কার্টিজ রেজর—যেটিই ব্যবহার করুন, ধারালো ও পরিষ্কার ব্লেড বেছে নিন। প্রথমবার লোম যেদিকে বাড়ে, সেদিকেই ক্ষুর চালান। আরও মসৃণভাবে দাড়ি কামাতে চাইলে আবার ফেনা লাগিয়ে সাবধানে লোমের বিপরীত দিকে ক্ষুর চালাতে পারেন।
৪. ত্বকের যত্ন নিন: দাড়ি কামানো শেষে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এরপর ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এবং জ্বালাপোড়া কমাতে ময়েশ্চারাইজিং আফটারশেভ বাম ব্যবহার করুন।
যেভাবে উদযাপন করবেন জাতীয় দাড়িমুক্ত দিবস
দাড়ি কামিয়ে নতুন রূপে ফিরতে চাইলে কয়েকটি উপায়ে দিনটি উদযাপন করতে পারেন।
পেশাদার নাপিতের সাহায্য নিন: পেশাদার নাপিতের কাছে গিয়ে গরম তোয়ালে ও সোজা ক্ষুর দিয়ে দাড়ি কামানোর অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। এতে আরামদায়ক ও স্মৃতিময় অভিজ্ঞতার পাশাপাশি মুখও হবে মসৃণ।
শুরু করুন সচেতনতামূলক উদ্যোগ: ‘মুভেম্বার’ বা ‘নো শেভ নভেম্বর’-এ অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে এ দিন থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগ শুরু করতে পারেন। দাড়ি কামানোর আগের ছবি প্রকাশ করে তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যও জানিয়ে দিতে পারেন।
প্রিয়জনের প্রশংসা করুন: আপনার নিজের দাড়ি না থাকলেও সমস্যা নেই। পরিষ্কার মুখে থাকতে পছন্দ করেন- এমন বন্ধু, পরিবারের সদস্য কিংবা সঙ্গীর প্রশংসা করে দিনটি উদযাপন করতে পারেন।
ছবি তুলে ভাগ করে নিন: দাড়িওয়ালা চেহারার ছবি এবং দাড়ি কামানোর পরের ছবি পাশাপাশি যুক্ত করে পরিবর্তনটি তুলে ধরুন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘#NATIONALNOBEARDDAY’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে ছবিগুলো প্রকাশ করুন।
দাড়িমুক্ত দিবস তাই শুধু দাড়ি কামানোর দিন নয়, বরং নতুন লুকে নিজেকে দেখার এবং পুরুষদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে আসন্ন উদ্যোগগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়ারও একটি উপলক্ষ।
সূত্র: ন্যাশনাল ডে ক্যালেন্ডার
