অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই দুর্গাপূজার মূল দর্শন: রাষ্ট্রপতি
অন্যায়, অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং তা পরাজিত করাই শারদীয় দুর্গাপূজার মূল দর্শন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাজধানীর রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি সবাইকে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, হিন্দুধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, পৃথিবীতে যখন অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতন বেড়ে গিয়েছিল, তখনই দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল। বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময়ে অন্যায়ের আবির্ভাব ঘটেছে এবং এ দেশের মানুষ তা প্রতিহত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রমনা কালীমন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালে মন্দিরটি ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছিল এবং ১৯৭৩ সালে এটি পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় রমনা কালীমন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে মন্দিরটিকে পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি।
দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে বিভিন্ন সময় অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচার চালানো হয়। তবে দেশের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতি দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি আশ্বস্ত করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে দুর্গাপূজার সার্বিক সফলতা কামনা করেন এবং অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অপর্ণা রায় দাস এবং সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন।
