নড়াইলের নবগঙ্গা নদীর ওপর ফেদি বাজার ঘাটে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই পাড়ের লক্ষাধিক মানুষ। বারবার সময় বাড়ানোর পরও কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএলের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৪ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। এখন অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং জনদুর্ভোগ কমাতে ফেদি বাজার এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের কার্যাদেশ ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএলকে দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। পরে কয়েক দফায় সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হলেও সেতুর মাত্র ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়। বাকি ৩০ শতাংশ কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই মেয়াদ শেষ হয়। এর মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে।
সেতুর কাজ আটকে থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন লোহাগড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা। জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা প্রয়োজনে প্রতিদিন তাদের জেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু সরাসরি সেতু না থাকায় নদী পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বর্তমানে ফেদি বাজার ঘাটে দুটি ছোট নৌকার ওপর নির্ভর করে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন স্থানীয়রা। বিকল্প পথে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হওয়ায় চিকিৎসাসেবা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
নদীর দুই পাড়ে সেতুর অসম্পূর্ণ কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও কবে নাগাদ এর নির্মাণকাজ শেষ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, নতুন ঠিকাদার নিয়োগের পর আর যেন দীর্ঘসূত্রতা তৈরি না হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করে এটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
নড়াইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর বলেন, বারবার সময় দেওয়ার পরও চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেতুর অসমাপ্ত ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করতে ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
