মোহনবাগান - ২ (লি, মিগুয়েল)
স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি - ১ (নামতে)
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ষষ্ঠীতে স্বস্তি। এক গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। আইএসএলের প্রথম জয় পেল মোহনবাগান। শুক্রবার দিল্লির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লিকে ২-১ গোলে হারাল শিল্ড জয়ীরা। মোহনবাগানের গোলদাতা লি আরউইন এবং মিগুয়েল ফিগুয়েরা। মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। সবুজ মেরুন জার্সিতে প্রথম গোল লির। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করার পর অবশেষে গোল পান স্কটিশ স্ট্রাইকার। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে রাহুল বেকের পাস থেকে গোলে আলতো ট্যাপ আরউইনের। ম্যাচে সমতা ফেরে। চার মিনিট পর আবার গোল। ৬০ মিনিটে আপুইয়ার ঠিকানা লেখা পাস থেকে বাঁ পায়ের দারুণ প্লেসিং মিগুয়েলের। প্রথমার্ধে ব্যাকফুটে থাকার পর বিরতির পর গিয়ার বদলায় বাগান। দ্বিতীয়ার্ধে চেনা মোহনবাগানকে দেখা যায়। গোলের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। কিন্তু ৮৬ মিনিটে জেলকোভিচের নিশ্চিত শট বাঁচান দিল্লির গোলকিপার নোরা ফার্নান্দেজ। ৯০ মিনিটে মনবীরের শট ক্রসপিসে লাগে। নর্থ ইস্টের কাছে উদ্বোধনী ম্যাচ হারার পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবেন প্যানাগিওটিস দিলমপেরিস।
এদিন ৪-২-৩-১ ফরমেশনে শুরু করেন প্যানোস। রক্ষণে কোনও পরিবর্তন নেই। দুই স্টপার আলবার্তো এবং রাহুল বেকে। দুই ব্যাকে মেহতাব এবং অভিষেক। দুই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার অনিরুদ্ধ থাপা এবং আপুইয়া। এদিন প্রথম একাদশে শুরু থেকে মিগুয়েলকে খেলান মোহনবাগান কোচ। আগের দিন শুরু করেছিলেন সাহাল। মাঝমাঠে বাকি দু'জন ড্রাজিচ এবং ছাংতে। সামনে একা লি আরউইন। এদিন শুরুতে বাগানের রক্ষণ কিছুটা নড়বড়ে দেখায়। আইমেন, নামতে, রডরিগুইনহো বারবার সবুজ মেরুন রক্ষণ ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করে। অন্যদিকে প্রথম মিনিট থেকেই সচল ছিলেন মিগুয়েল। আরউইনকে লক্ষ্য করে বল বাড়ানোর চেষ্টা করেন। বেশ কয়েকবার সফল হলেও ফিনিশিংয়ের অভাব। অন্যদিক প্রথম পজিটিভ সুযোগ দিল্লির। ম্যাচের ৭ মিনিট রডরিগুইনহোর শট বাইরে যায়। শুরুতে আগ্রাসী দেখায় দিল্লিকে। টমস মোহনবাগানের ২০১৯-২০ আই লিগ জয়ী দলের কোচিং স্টাফের সদস্য ছিলেন। এদিন তাঁর দল শুরুটা ভালও করে। কিন্তু শেষপর্যন্ত টেম্পো ধরে রাখতে পারেনি।
ড্রাজিচ এবং ছাংতে দুই উইং দিয়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে। ঘরের মাঠে শুরুতে আধিপত্য দেখায় দিল্লি। শুরুতে কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর ফুটবল খেলে বাগান। ম্যাচের ১৯ মিনিটে শিল্ড জয়ীদের প্রথম সুযোগ। লির শট বাঁচান দিল্লির গোলকিপার নোরা ফার্নান্দেজ। মিগুয়েলকে ডিফেন্ডাররা ঘিরে রাখলেও দুর্দান্ত কয়েকটি টাচ উপহার দেন। ম্যাচের ২৩ মিনিটে এগিয়ে যায় দিল্লি। বাঁ দিক থেকে একটি লম্বা বল পান নামতে। গতি বাড়িয়ে বিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়েন। বুক দিয়ে বল নামিয়ে বাঁ পায়ের শটে বিশাল কাইতকে পরাস্ত করে গোলে রাখেন। গোল হজম করার পর সম্বিত ফেরে সবুজ মেরুন রক্ষণের।
প্রথমার্ধের শেষ কোয়ার্টারে খুব বেশি আক্রমণে উঠতে পারেনি দিল্লি। বেশ কয়েকটি লং রেঞ্জার শট দিয়ে বিশালকে পরখ করার চেষ্টা করে। ম্যাচের ৩৭ মিনিট গোলের সুবর্ণ সুযোগ পায় দিল্লি। বল পাছাড়া করেন আরউইন। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আক্রমণ করে আইমেন। কিন্তু বিপদ ঘটেনি। শেষ মিনিটে বল বিপদমুক্ত করেন মেহতাব। প্রথমার্ধে অগ্রাধিকার ছিল দিল্লির। মোহনবাগানের তুলনায় গোল লক্ষ্য করে শটও বেশি। বিরতির ঠিক আগে গোলের সুযোগ তৈরি করে বাগান। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে কলকাতার প্রধানের সেরা সুযোগ। ড্রাজিচের পাস থেকে আরউইনের বাঁ পায়ের ভলি বাইরে যায়। এই গোলটা করা উচিত ছিল স্কটিশ স্ট্রাইকারের। সাইডলাইনে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় প্যানোসকে। নিশ্চিত সিটার মিস। তবে শেষপর্যন্ত হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়নি গ্রিক কোচকে। দ্বিতীয়ার্ধের দাপুটে ফুটবলে হারের গ্লানি মুছে দুর্গাপুজোর প্রথম দিনই জয়ে ফিরল বাগান।
